সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই জোট এবং কার্যত এই জোটের নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের জন্য এটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক-এ আরব আমিরাত সদস্যপদ পায় ১৯৬৭ সালে।
এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ ধাক্কা লেগেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে।
ওপেক-এর দীর্ঘদিনের সদস্য আমিরাতের সরে যাওয়া জোটটির মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এবং জোটটিকে দুর্বল করে দিতে পারে। এত বছরে বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ইস্যু ও উৎপাদন কোটার মতো বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকলেও ওপেক সদস্য দেশগুলো সাধারণত ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করে এসেছে।
আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুই রয়টার্সকে বলেন, দেশের জ্বালানি কৌশল নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ‘এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন নীতির স্তর বিবেচনা করেই এটি নেওয়া হয়েছে’ – বলেছেন সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুই।
ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানিতে সমস্যায় পড়েছে। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। কিন্তু ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার কারণে সেখানে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
মাজরুই বলেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত আলাদা করে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
তবে ওপেক থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বহুবার অভিযোগ করেছেন, তেলের দাম বাড়িয়ে ওপেক ‘বিশ্বের বাকি অংশকে ঠকাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তখন তারা সেই সুযোগ নিয়ে তেলের উচ্চমূল্য চাপিয়ে দেয়।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ চলার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র এবং ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র আমিরাত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের একাধিক হামলা থেকে তাদের রক্ষা করতে অন্য আরব দেশগুলো যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে সে সময় সমালোচনা করেছে আমিরাত।
আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সোমবার গালফ ইনফ্লুয়েন্সার্স ফোরামের এক অধিবেশনে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের দেশগুলো লজিস্টিকভাবে একে অপরকে সহায়তা করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে তাদের অবস্থান ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বলে আমি মনে করি।’
আনোয়ার গারগাশ আরও বলেন, ‘এমন দুর্বল অবস্থান আরব লিগের হলে মানা যেত, তাতে আমি বিস্মিত হতাম না। কিন্তু গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের কাছ থেকে আমি এমন আচরণ আশা করিনি, এবং এতে আমি বিস্মিত হয়েছি।’



