গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের জেরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ইসরায়েল। এ অবস্থায় নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈশ্বিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের আশা বিরোধী নেতাদের। যদিও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৭২ হাজার। এছাড়া, ইরান, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা করে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে তেল আবিব।
সম্প্রতি, জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সেটা যুদ্ধাপরাধের সামিল। এদিকে, সাম্প্রতিক এক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইসরায়েল।
এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একজোট হয়েছে বিরোধী নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কারণেই আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা এখন তলানিতে। যদিও তার সামরিক নীতি নিয়ে আপত্তি নেই এই দুই নেতার।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বেনেট-লাপিদের জোট ও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি কার্যত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
এদিকে, ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। জাতিসংঘ কমিশন গাজা অভিযানে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও ইসরায়েলের সাথে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের দাবি জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইসরায়েলবিরোধী জনমত। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসন সমর্থন বহাল রাখলেও ইরান ও লেবানন যুদ্ধের সময় ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গেছে।
আগামী অক্টোবরে নির্বাচনে জিতলে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের আশা বেনেট-লাপিদের। তবে গাজা, লেবানন ও ইরান যুদ্ধের প্রশ্নে তাদের বক্তব্যে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সংকট কাটবে না। দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে হলে ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে হবে।



