মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যেন উত্তেজনার স্রোত বইছে। একদিকে আমেরিকার যুদ্ধবিমান, অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য—এক বিস্ফোরণের অপেক্ষায়! কারণ, এবার সরাসরি আমেরিকার মুখের ওপর “না” বলে দিয়েছে তেহরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান… নিজেদের পারমাণবিক অধিকার থেকেও এক ইঞ্চি সরবে না তারা। আর ঠিক এই মুহূর্তেই ওয়াশিংটনে বাড়ছে যুদ্ধের গন্ধ। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি—ইরানকে অবশ্যই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছাড়তে হবে। শুধু তাই নয়… ওয়াশিংটন চায়, ইরান তাদের অধিকাংশ পারমাণবিক স্থাপনাও বন্ধ করে দিক।
তেহরানের জবাব ছিল পরিষ্কার… এবং ভয়ংকরভাবে কঠোর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস্মাইল বাঘাই ঘোষণা দিয়েছেন—“ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার আমাদের সার্বভৌম অধিকার। এটি নিয়ে কোনো দরকষাকষি হবে না।” অর্থাৎ, যুদ্ধের চাপ… নিষেধাজ্ঞা… এমনকি সামরিক হুমকিও ইরানকে নরম করতে পারেনি। আর এই অবস্থাতেই নতুন নাটকীয় তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি… হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতেও প্রস্তুত… এমনকি কিছু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। হোয়াইট হাউস বলছে—ইরানের নতুন প্রস্তাবে ওয়াশিংটন এখনো সন্তুষ্ট নয়। আর এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আবারও সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—এই অচলাবস্থা এখন শুধু কূটনীতির সংকট নয়… এটি পরিণত হচ্ছে সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে। কারণ, হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে ইরান যদি আবার কড়াকড়ি আরোপ করে… তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও ভয়াবহভাবে বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে মার্কিন অবরোধ, যুদ্ধের আশঙ্কা আর জ্বালানি সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। বিশ্লেষকরা বলছেন—واশিংটন মনে করছে বাড়তি চাপ দিলে ইরান শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। ইরানের কাছে পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু প্রযুক্তি নয়… এটি এখন তাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রতীক।
রাশিয়াও এবার প্রকাশ্যে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন—এনপিটি (NPT) চুক্তির অধীনে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের আছে। অর্থাৎ, এই সংঘাতে এখন শুধু আমেরিকা আর ইরান নয়… পর্দার আড়ালে বড় শক্তিগুলোর অবস্থানও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর এই কারণেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—ট্রাম্প কি সত্যিই নতুন সামরিক হামলার দিকে এগোচ্ছেন? কারণ, আলোচনার টেবিল এখনো পুরোপুরি ভাঙেনি… কিন্তু দুই পক্ষের ভাষা যত আক্রমণাত্মক হচ্ছে… যুদ্ধের সম্ভাবনাও তত বাড়ছে।
ফলে, আজকের পরিস্থিতি বলতে গেলে একদিকে কূটনীতি, অন্যদিকে উত্তেজনার টানাপোড়েন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলেও ইরান অটল। ইউরেনিয়াম কার দখলে থাকবে—এই প্রশ্ন এখন বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চিত অধ্যায়। মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক বিপর্যয় এবং কূটনীতি জটিলতার মোড়কে বাঁধা। এই নাটকীয় পরিস্থিতির পরবর্তী ধাপ কি শান্তি, নাকি নতুন সংঘাতের আগুন—সেটাই এখন পুরো বিশ্বের নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে।



