চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
গত বেশ কয়েকদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার মাঝেই নতুন করে হামলা শুরুর আশঙ্কাকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। এবারে ইতিবাচক আলোচনার খবর জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আরও একবার তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে মার্কিন আলোচকদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকবে।
এরপরই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথে হাঁটছে না। এ বিষয়ে বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে তারা প্রস্তুত।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে প্রস্তুত যে, আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না। কিন্তু কোনো আলোচনা বা সমঝোতার ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা ও জাতীয় গৌরবের সঙ্গে আপস করা হবে না।
তবে পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, সংঘাত জিইয়ে রেখে বৃহত্তর ইসরায়েল তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে নেতানিয়াহু সরকার। তারাই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মূল কারণ।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি দূর করতে হবে, ফোনালাপে ট্রাম্প এনিয়ে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এসব মন্তব্য এমন সময়ে এল যখন ওয়াশিংটন-তেহরান পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান- সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে এমন শর্ত থাকতে পারে।



