রাজনৈতিক অস্থিরতা আর অভ্যন্তরীণ বিভেদে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন নীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে জনগণের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশটির ৬০ ভাগ নাগরিকই আশঙ্কা জানান, গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ। পরিস্থির অবনতি ঘটলে দেশটি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জিউইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। এতে অংশ নেওয়া ৭৯ শতাংশ ইসরায়েলি জানান, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সামাজিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। দেশের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ৪৯ ভাগ নাগরিক। ৬০ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে, গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ।
জরিপ অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের গৃহীত নানা সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে অস্থিরতাকে উস্কে দিচ্ছে। ৫২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা গুপ্তহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর আগে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি প্রেসিডেন্ট আহরন বারাকও সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিরোধের ফলে দেশ গৃহযুদ্ধের কবলে পড়তে যাচ্ছে।
এদিকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট ও বাজেট ঘাটতির কারণে কমানো হয়েছে প্রতিরক্ষা বাজেট। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযান ও পরবর্তী উত্তেজনা ইসরায়েলি জনগণকে আরও বিভক্ত করেছে। তাই সরকার জাতির আস্থা ও সংহতি ফেরাতে ব্যর্থ হলে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ফলে আদালতের শক্তি দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই আদালতের ক্ষমতা সীমিত করায় সরকার নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকরা।
বিশ্লেষকরাও বলছেন, বর্তমানে ইসরায়েলি সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত ও মেরুকৃত। এই বিভেদ দূর করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন। সরকারের যেকোন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।



