গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে শুরুর পর পেরিয়ে গেছে তিন বছর। হামাসের হামলার জবাবে শুরু হওয়া অভিযানে গোটা উপত্যকা পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় সেই সংঘাত ছাড়িয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত। ফলে ফিলিস্তিনে শান্তি আর স্থিতিশীলতা অর্জনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, মিউজিক ফেস্টিভ্যালে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার জেরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তবে অভিযানের লক্ষ্য অর্জন তো দূরের কথা, গত ৩ বছরে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি এবং শেষ পর্যন্ত সরাসরি ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল। যার ফলে ফিলিস্তিনের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির একাধিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও ইসরায়েলি আগ্রাসন, হামাসের বিক্ষিপ্ত হামলা আর ভঙ্গুর সমঝোতার কারণে গাজা উপত্যকায় শান্তি নামক বস্তুটিই অধরা হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাস শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্মত হলেও, তার স্থায়ীত্ব নিয়ে এখনও সন্দিহান তারা।
গাজার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ঘরে-বাইরে সবখানেই আমরা আতঙ্কে থাকি। সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা হয়, এক্ষুনি হয়তো গোলা এসে পড়বে। আর আমরা সবাই মারা পড়ব। আমাদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। সত্যি বলতে, আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় প্রশাসনিক অবকাঠামো, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এরই মাঝে তীব্র খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানি আর চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।
জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, সবাইকে যেকোন মূল্যে বেসামরিক নাগরিক বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী, ত্রাণসামগ্রী ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু জটিলতা দেখছেন বিশ্লেষকরা। অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ আর নিরাপত্তা নিয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান গাজার পুনর্গঠনকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিললেও লাখ লাখ মানুষের পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অসম্ভব করে তুলেছে।
২০২৩ সালে হামাসের হামলায় প্রাণ হারায় প্রায় ১২০০ বেসামরিক ইসরায়েলি। আর গত তিন বছরে ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। ঘরছাড়া হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।


