সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ভয়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে পালিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মসজিদ থেকে ঘোষণা দিয়ে পরিবারগুলোকে অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী তিরাহ উপত্যকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভারী তুষারপাত ও প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও তাঁরা আশপাশের এলাকায় সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তাঁদেরই একজন দোকানদার গুল আফ্রিদি পরিবার নিয়ে তিরাহ উপত্যকা থেকে প্রায় ৭১ কিলোমিটার পূর্বের বারা শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মসজিদ থেকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলা হয়। সবাই এলাকা ছাড়ছিল, তাই আমরাও এখানে চলে এসেছি।’
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকা ছেড়ে আসা কয়েক হাজার পরিবারকে সহায়তার জন্য নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে।
তিরাহ উপত্যকা অনেক দিন ধরেই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালানোর অভিযোগ আছে।
অবশ্য পাকিস্তান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযানের ঘোষণা দেয়নি। গত মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ দাবি করেন, তিরাহ এলাকায় কোনো অভিযান চলমান নেই। স্থানীয়দের আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘স্বাভাবিক মৌসুমি স্থানান্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সামরিক বাহিনীর সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই স্থানান্তরের জন্য কয়েক মাস ধরে জাতিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার আলোচনা চলছে। কারণ, সশস্ত্র জঙ্গিরা স্থানীয়দের মধ্যে লুকিয়ে থেকে বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে।
সূত্রটি আরও জানায়, অভিযানে হতাহতের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয়দের সাময়িকভাবে এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও শীতের কারণে বড় কোনো অভিযান এখনো শুরু করা যায়নি।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এই সপ্তাহের শুরুতে অভিযোগ করেন, তিরাহ উপত্যকায় অভিযানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে অবগত করেনি। প্রাদেশিক সরকারের মত উপেক্ষা করেই গোপন বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও নিরাপত্তা অভিযানের অজুহাতে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার এই বিষয়ে জানতে চাইলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার রয়টার্সের আবেদনের জবাব দেয়নি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিরাহ উপত্যকায় একটি সন্দেহভাজন বোমা তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে বহু মানুষ মারা যায়।


পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৪১ সন্ত্রাসী নিহত
