সেমিফাইনালের আগেই বোমা ফেটেছে। নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে দেখে ভারত নানারকম অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে, এমন অভিযোগ আজকের নয়। বোলিংয়ের সময় সম্পূর্ণ নতুন বল ব্যবহার করছে, নিজেদের সুবিধামতো ডিআরএস কাজে লাগাচ্ছে, আম্পায়ারদের ‘কিনে’ নিচ্ছে – আরও কত কী! তবে সেসব অভিযোগের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তিপ্রমাণ ছিল না। এবারের অভিযোগটা আরও গুরুতর।
উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের সম্পাদক, একাধিক পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ ক্রীড়াসাংবাদিক লরেন্স বুথ দাবি করেছেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে আইসিসি’র নিয়ম ভেঙে পিচ বদলেছে ভারত, উইকেট নিয়ে কারসাজি করেছে। একই বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য এজ’-ও। অথচ কোনো উইকেটে খেলা হবে, কোন পিচ ব্যবহার করা হবে, কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু আইসিসি’র। আইসিসি’র নিয়ম ভেঙে নিজেদের ইচ্ছেমতো পিচ বদলেছে।
আইসিসির পিচ পরামর্শক অ্যান্ডি অ্যাটকিনসনের দায়িত্ব বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দুই দলই যেন সমান সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এক ই-মেইলে উইকেট নিরপেক্ষ আচরণ করবে কিনা, এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অ্যাটকিনসন। দ্য ডেইলি মেইলে প্রকাশিত সে ই-মেইলে লেখা আছে, ‘এমন পদক্ষেপের ফলে চাইলে প্রশ্ন তোলা যায়, এবারই কি প্রথম আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন উইকেট দেখা যাবে যা স্বাগতিক দলের টিম ম্যানেজমেন্ট বা বোর্ডের অনুরোধে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা ও বেছে নেওয়া হয়েছে। নাকি অংশগ্রহণকারী দুই দলের কাউকে সুবিধা না দিয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই উইকেট বেছে নেওয়া হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এমন উইকেটই থাকার কথা?’
কিন্তু কোন পিচে সেমিফাইনাল খেলার জন্য উতলা হয়ে উঠেছে ভারত? প্রশ্ন এসেই যায়। প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেমিফাইনাল হবে ওয়াংখেড়ের সাত নম্বর উইকেটে। টুর্নামেন্টে এখনো এই উইকেটে কোনো ম্যাচ হয়নি। তরতাজা উইকেটে প্রচুর রান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে উইকেট বদলে ফেলা হয়েছে। এখন ছয় নম্বর উইকেটে খেলা হবে, যেখানে এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ হয়েছে।
সে দুটি ম্যাচ – ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ও ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা। চাইলে দুটি ম্যাচেই কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। দুই ম্যাচেই প্রথমে ব্যাট করা দল রানের পাহাড়ে চড়ে প্রতিপক্ষকে হেসেখেলে হারিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ৩৯৯ রান, ভারত ৩৫৭। পরে ব্যাট করা দল লজ্জাজনক ব্যাটিং দেখিয়ে হেরেছে বড় ব্যবধান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ড ১৭০ রান তুলে হেরেছে ২২৯ রানে, ওদিকে শ্রীলঙ্কাকে ৫৫ রানে অলআউট করে ভারত জিতেছে ৩০২ রানে।
ভারত কী তাহলে নিউজিল্যান্ডকে একইভাবে রান পাহাড়ে চাপা দিতে চাইছে? মেইল আর এজের প্রতিবেদনকে সত্যি মানলে সেটাই হয়তো!



