ভারত ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিলেও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, সতর্ক সীমায় বইছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পাংখা পয়েন্টের পানি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালের পর তুলনামূলকভাবে এ বছর উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ বেশি। যার কারণে প্লাবিত হয়েছে নিম্ন ও চরাঞ্চল।
দুই সপ্তাহ ধরে উজানে ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিহারে গঙ্গা নদীতে পানির স্তর অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। খুলে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটের সবগুলো।
ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ায় পানি বাড়ে পদ্মা নদীতেও। পাংখা পয়েন্টে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানি বেড়ে তা প্রবাহিত হয় সতর্কসীমা দিয়ে। এতে তলিয়ে যায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। তবে উজানে বৃষ্টি কমে আসায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা নেই।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, 'গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাংখা পয়েন্টে বিগত ২৪ ঘন্টায় ৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে এবং উজানের ভারতের অংশে গঙ্গা নদীর মূল শাখায় বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের অংশে বর্তমানে পানি হ্রাস পাচ্ছে।'
এদিকে দেশের ভেতরে আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ১৭ তারিখের পর ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। সিলেট, মেঘালয় ও আসামে ভারি বৃষ্টি হলেও নেই জলাবদ্ধতার শঙ্কা।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, '১৭, ১৮, ১৯ তারিখের দিকে বৃষ্টির প্রবণতা একটু বাড়বে। সেটা হয়তো ময়মনসিংহ, সিলেট, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা- এসব জায়গাতে বৃষ্টি বাড়বে। এটা হয়তো ১৮-১৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে।'
দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এ কারণেই কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় সব বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের।



