বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অভিযোগে উঠে এসেছে, এই বিপুল অঙ্কের টাকা অষ্টেলিয়া, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি (জেলা প্রশাসক) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্যের সাথেও আসিফের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে আসিফ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে অভিযোগে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, আসিফ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে জনাব আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডি'র সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে জনাব আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করেছিলেন।
আসিফের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগের তালিকায় আরও আছে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়, হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত, দুর্নীতির টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রীন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। তিনি দুবাইতে ৪,৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১,৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছে দুদক।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে আসিফ বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, কিন্তু প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগে উঠে এসেছে।
এছাড়া আসিফ মাহমুদের পিও (পার্সোনাল অফিসার) মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন মর্মে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।



