নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে পঞ্চম দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিন চলছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।
পঞ্চম দফা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় যানবাহন কম। চালকরা বলছেন, অবরোধের দিনে অফিসের সময় ছাড়া যাত্রীও কিছুটা কম। তবে আগের কয়েকদিনের চেয়ে সাধারণের চলাচল বেড়েছে। যাত্রী ও পথচারীরা প্রয়োজনের তাগিদে নামছেন সড়কে।
অবরোধ কর্মসূচিতে নাশকতা-বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নগরীর প্রধান প্রধান পয়েন্টে রয়েছে তাদের অবস্থান, চলছে টহল। এ ছাড়া সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৮১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে ঢাকার দোহারে একটি ট্রাক, চট্টগ্রামে দুটি বাস এবং বগুড়া ও নাটোরে দুটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এসব অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) খুলশী থানার ওসি রুবেল হাওলাদার জানান, চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড় এলাকার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া নাটোর ও বগুড়ায় দুইটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বগুড়ায় এসপি অফিস এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শান্তির মোড় এলাকায় একটি ট্রাক ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া গাজীপুরের ভুরুলিয়ায় রেল লাইনের স্লিপারে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও।
বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন শতাধিক। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাঙচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।
ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পর থেকে বিভিন্ন মেয়াদে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে দলটি।
বিএনপি–জামায়াতের হরতাল অবরোধও শান্তিপূর্ণ থাকেনি। ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৫৪টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর একটি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি, ২ নভেম্বর সাতটি, ৪ নভেম্বর ছয়টি, ৫ নভেম্বর ১৩টি, ৬ নভেম্বর ১৩টি, ৭ নভেম্বর দুটি, ৮ নভেম্বর নয়টি, ৯ নভেম্বর সাতটি, ১০ নভেম্বর দুটি, ১১ নভেম্বর সাতটি, ১২ নভেম্বর সাতটি ও ১৩ নভেম্বর সাতটি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
এসব আগুনের ঘটনায় পুড়েছে ৯৪টি যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস তিনটি, প্রাইভেটকার দুটি, মোটরসাইকেল আটটি, ট্রাক ১৩টি, কাভার্ডভ্যান আটটি, অ্যাম্বুলেন্স একটি, পিকআপ দুটি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুটি, নছিমন একটি, লেগুনা একটি, ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি একটি, পুলিশের গাড়ি একটি, বিএনপি অফিস পাঁচটি, আওয়ামী লীগ অফিস একটি, পুলিশ বক্স একটি, কাউন্সিলর অফিস একটি, বিদ্যুৎ অফিস দুটি, বাস কাউন্টার একটি ও দুটি শো-রুম।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা সিটিতে ৮২টি, ঢাকা বিভাগে ৩৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪টি, রাজশাহী বিভাগে নয়টি, বরিশাল বিভাগে ছয়টি, রংপুর বিভাগে ছয়টি, খুলনা বিভাগে দুটি, ময়মনসিংহ বিভাগে একটি আগুনের ঘটনা ঘটে।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাব বলছে, এভাবে অবরোধ হরতালে সারা দেশে আগুন দেওয়া হয়েছে ১১৩টি বাস-ট্রাকে। আর ভাঙচুর হয়েছে ২০০টি গাড়ি। এতে আর্থিক ক্ষতি অন্তত ২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এমন কোনো ফান্ড নেই যে শত শত কোটি টাকা মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে। এটার কোনো অর্থই নেই এখানে। আমরা চাই তাঁদের শাস্তি হোক যারা এগুলো করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন গাড়ির মালিক–শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সেগুলো আমরা ওনার মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।’
পরিবহন মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অবরোধে রাজধানীতে গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় ২০ ভাগ। আর দূরপাল্লার বাস চলেনি ৬০ শতাংশ। পণ্যবাহী ট্রাকও বন্ধ ছিল ৬০ শতাংশের মতো।


নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে ইইউকে ঢাকা
তফসিল প্রত্যাখান, নতুন কর্মসূচি নেই বিএনপির
তফসিলকে স্বাগত জানাল তৃণমূল বিএনপি
বিএনপিকে ভোটে আসতে বলে বহিষ্কার হলেন দুই নেতা
সরকার এখন শুধু রুটিন কাজ করবে: আইনমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের পথে ক্ষমতা বদলের চিন্তা করে না: কাদের
তফসিলকে স্বাগত জানালেন রওশন এরশাদ
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু ১৭ নভেম্বর 
