টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বাদীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে নিজ কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
গোলাম কিবরিয়া জেলা বাস–মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব। তিনি টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের ভাই।
নিহত নারীর স্বজন ও পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী নারী ঘুমানোর কথা বলে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করেন। এরপর ওই বাসায় এক আত্মীয়ের কাছে থাকা তার ছেলে কান্না শুরু করে। তখন ওই আত্মীয় দরজা ধাক্কা দেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে বিকেল চারটার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে যায়। তারা কক্ষে ভুক্তভোগী নারীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু ছালাম মিয়া বলেন, ‘সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঢাকার ক্রাইমসিনকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসলে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। পরে ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন ভুক্তভোগী।
ভিডিও দেখুন:মামলা দায়েরের পর বড় মনির উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ৩০ জুন টাঙ্গাইল শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুক্তভোগী নারী পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। পরে আদালতের নির্দেশে ওই শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্ম নেওয়া ওই শিশুটির বাবা গোলাম কিবরিয়া নন। পরে আদালত গত ৯ অক্টোবর গোলাম কিবরিয়াকে ১১ জুলাই উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। পরে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ধর্ষণের এই মামলাটি টাঙ্গাইলের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিপিআই) তদন্ত করছে।



