পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী বিনিয়োগকারী আহ্বান করছে শ্রীলঙ্কা। গত শুক্রবার দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা ভিজেসেকেরা এমনটা জানান। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প নেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিদ্যুতের প্রাথমিক উৎস হলো আমদানি করা তেল, কয়লা ও জলবিদ্যুৎ। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উত্স থেকে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উত্পাদনের লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার। তাছাড়া জ্বালানি খাতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার কম-কার্বন নিঃসরণে সহায়তা করবে। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে শ্রীলঙ্কার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা ভিজেসেকেরা বলেন, ‘সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে। ’ কলম্বোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর এক এক্স পোস্টে দেশটির এ কথা জানান তিনি।
গত জুলাইয়ে ভিজেসেকেরাকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, রাশিয়া, আমেরিকা, ভারত এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনা করছে শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া ২০১০ সালে তৎকালীন জ্বালানি সচিব বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল ভারত ও পাকিস্তানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়াধীন। দেশে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু কোম্পানি। চীন ও পাকিস্তান গত জুনে পাঞ্জাব প্রদেশে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একটি প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।



