আমাদের দেশ অনেক কিছুতেই এগিয়ে। এর মধ্যে ইতিবাচক বিষয় যেমন আছে, তেমন নেতিবাচকও আছে। যদিও কোনটা ইতি, আর কোনটা নেতি—সেটি পুরোপুরিই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। মানুষভেদে অনেক ইতিই হয়ে যায় নেতি, আবার অনেক নেতি হতে পারে ইতি!
এখন যে খবরটি আপনারা পাবেন, সেটিকে ইতি বা নেতি—দুই অর্থেই নিতে পারেন। যে কোনো এক পক্ষে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আপনারা অবশ্য স্পষ্টভাবেই পক্ষভুক্ত হয়ে যেতে পারেন। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনো এক পক্ষে যাওয়া এবং সেই অবস্থানে টিকে থাকা সত্যিই কঠিন। কারণ সম্ভাব্যতার সূত্র খাটালে শাশ্বত সত্য বলতে কিছু মনে রাখা যে দুষ্কর।
সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ক্যাঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আইন হতে চলেছে। এ ব্যাপারে আইনপ্রণেতাগণ খুবই ‘সিরিয়াস’। নতুন আইনে বলা হচ্ছে, কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পরেও অনেক সময় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর অধস্তন কর্মীদের ফোনকল ও ক্ষুদে বার্তা দিয়ে নানা কাজ বাতলে দেন। এসব অপেশাদার আচরণ নাকি সারা বিশ্বেই চর্চিত হতে দেখা যায়। অযৌক্তিক এসব যন্ত্রণা থেকে অধস্তন কর্মীদের মুক্তি দিতে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পর বসের অযৌক্তিক (বা আজাইরা!) ফোনকল ও মেসেজ উপেক্ষা করার অনুমতি দিয়ে আইন পাস করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
বুঝুন তবে, মানবতা আজ কোথায়! হ্যাঁ, এ দেশের অনেকেই অবশ্য বলতেই পারেন যে, অস্ট্রেলিয়ায়। তবে মানবতা তো শুধু এক দেশে থাকলেই হবে না। বিশ্বের সব দেশেই দরকার। যেমন: একই ধরনের আইন ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশেও নাকি রয়েছে। চিল্লাইয়া কন, ঠিক কি না?
আর সেই ঠিক–বেঠিকের প্রসঙ্গেই এগিয়েছে বাংলাদেশের ‘নিখিল নিপীড়িত পাবলিক–প্রাইভেট কামলা সংঘ’, সংক্ষেপে নিনিপাকাস। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভুল ই–মেইল অ্যাড্রেসে পাঠানো এক অদৃশ্যমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সঙগঠনটি বলেছে, এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানানো উচিত। এ ধরনের ফোনকল ও মেসেজ তারা প্রায় সময়ই পেয়ে থাকেন এবং সেগুলো ধরতে ও প্রত্যুত্তর দিতে বাধ্য থাকেন। কেউ কেউ আবার এ কারণে পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহপ্রবণ ব্যবহারেরও শিকার হন। কারণ প্রেমিক/প্রেমিকা বা ঘরের স্বামী/স্ত্রীরা তখন সন্দেহ করতে থাকেন যে, তারা হয়তো অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছেন! নইলে এত সময় কেউ কাউকে দেয়!
নিনিপাকাস আরও বলেছে, এ দেশের শ্রমবাজারে মানবঘনত্ব বাজারের উচ্চ মানের ক্ষীরে জড়ো হওয়া পিঁপড়ার ঘনত্বের চেয়ে বেশি। ফলে উচ্চপদস্থদের ক্রিম খাওয়া আর শেষ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কিছু কর্মীদের ‘ঠ্যালা ছাড়া খাব না কলা’ ঘরানার প্রবণতাও দায়ী বলে মনে করছে নিনিপাকাস। তবে তাই বলে কয়েকজনকে শায়েস্তা করার জন্য সবাইকে আখ মাড়াইয়ের কলে শিক্ষাভ্রমণে নিয়ে যাওয়ার নীতিতে তারা বিশ্বাসী নন।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আইন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের বাঁশফুলের বুকি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিখিল নিপীড়িত পাবলিক–প্রাইভেট কামলা সংঘ বলেছে, এই কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে চায় তারা। নিপীড়িত কামলা এতদঅঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দাবি করে সঙগঠনটি বলেছে, শুধু আইন করলেই হয় না। বসদের আজাইরা ফোনকল ও মেসেজ শনাক্ত করাও একটা বিশাল কাজ এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকলে সেটি সবাই করতেও পারবে না। তাই এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াসহ সব দেশেই দক্ষ জনবল প্রয়োজন।
সেই দক্ষ জনবলের অভাব পূরণ করার জন্যই নিনিপাকাস নিজেদের প্রতিনিধিদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তাব তুলেছে। এতে দেশেরও লাভ হবে জানিয়ে সঙগঠনটি বলেছে, এভাবে বাইরে গিয়ে কাজ করলে প্রবাসী আয় বাড়বে। দেশে আসবে রেমিট্যান্সরূপী ডলার। কারণ নিনিপাকাস–এর প্রতিনিধিরা যে কোনো যৌক্তিক ফোনকল বা মেসেজকেও অযৌক্তিক বা আজাইরা বানিয়ে ফেলতে পারবে। এতে হবে বেশি বেশি জরিমানা। আর সেটি থেকেই কমিশন খেতে চায় নিনিপাকাস।
এ ব্যাপারে সঙগঠনটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভাপতি বলেছেন, ‘ধান্দা বুঝে রান্ধাই সবচেয়ে ভালো কৌশল। এই কাজটি আমাদের চেয়ে ভালো কেউ করতে পারবে না। আমাদের আছে অভিজ্ঞতা, আছে চিকন বুদ্ধি। আমরা চাই বসদের আজাইরা ফোনকল ও মেসেজ শনাক্তকারী একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। ভবিষ্যতে এটি হয়তো আমাদের কাজেও লাগবে। মূলত বিশ্ব মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই কাজটি করতে চাই। আমাদের রেমিট্যান্স দেখে অন্যকিছু ভাবার সুযোগ নেই। কারণ নিজের সেবাও এক অর্থে মানবতার সেবা।’
অবশ্য অস্ট্রেলিয়াতেও এই আইনের সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচনা করেছেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, নিয়োগকর্তা এবং করপোরেট নেতা। তাঁদের ভাষ্য—কর্মীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অধিকার দিয়ে আইন পাস করা হবে বাড়াবাড়ি। যদিও নিনিপাকাস মনে করে, বেতন পাওয়ার জন্য যে কাজ করতে হবে, এমন কোনো নিয়মই আসলে মানবতাবিরোধী!
সে যাক গে। আসল কথা হলো, বসদের আজাইরা ফোনকল–মেসেজ শনাক্তের কাজ আদৌ বাংলাদেশ পাবে কিনা—সে বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। এ ব্যাপারে এ দেশের একটি খুবই নিচু পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের অস্ট্রেলিয়া সফর করার কথা কানে–মুখে শোনা যাচ্ছে। যদিও এর সত্যতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি!


কর্মঘণ্টা শেষে বসের ফোনকল না ধরার অনুমতি দেবে অস্ট্রেলিয়া
