বসন্তে শিশুর যত্নে করণীয়

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৮ এএম

বসন্ত মানেই চারদিকে সবুজের সমারোহ আর রং বেরঙের ফুলের গন্ধ এবং পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারদিক। বসন্ত মানেই প্রকৃতি নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি। তবে, বসন্তে আমাদের ছোট ছোট সোনামনিরা নতুন প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।

এ সময় দিনের বেলা গরম অনুভূত হলেও রাতে ও ভোর রাতে ঠান্ডা পড়ে। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য আচরণে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই এ সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

করণীয়
১. শিশুদের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরতে দিন। 
২. খেয়াল রাখতে হবে, ঘাম বসে শিশুর যেন ঠান্ডা না লাগে।
৩. ফ্যান ব্যবহার করলেও সহনীয় মাত্রায় দিতে হবে।
৪. শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমের তাপমাত্রা ২২-২৪ ডিগ্রি রাখুন।
৫. নবজাতক ও কম বয়সের শিশুদের স্পর্শ করার আগে সাবান অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
৬. কেউ ঠান্ডা, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ও যেখানে সেখানে হাঁচি,কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে প্রচুর ধুলোবালি থাকে। তাই রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় শিশুদের মাস্ক ব্যবহার করাটা জরুরি। 
৮. বাইরের খোলা, বাসি খাবার খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।
৯. অ্যালার্জির উদ্রেক করে এমন খাবার যেমন ইলিশ মাছ, চিংড়ি, বেগুন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
১০. শিশুকে খাবার খাওয়ানোর আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
১১. শিশুকে সবুজ শাক সবজি, ফলমূল খেতে দিন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
১২.হুটহাট ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয়, আইসক্রিম খাওয়ানো যাবে না। তবে লেবু, বেল, তরমুজের শরবত শরীরের জন্য উপকারী। 
১৩. শিশুর ত্বকের যত্নে নিয়মিত গোসল এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১৪. এ সময় শিশুরা ঠান্ডা–কাশির সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। সর্দিতে আক্রান্ত হলে তুলসী পাতার রস, মধু, লবণ মিশ্রিত হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গরগরা করা বেশ উপকারী।

বসন্তকালে শিশুর ত্বকে ছত্রাক ও খুজলি জাতীয় প্রদাহ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে এবং পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীকে দূরে রাখতে হবে। সপরিবারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা গ্রহণের পর জামা, কাপড়, বিছানা চাদর ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে।

এ ছাড়া যদি শিশু বুকের দুধ খেতে সমস্যা হয়, ঘনঘন শ্বাস নেয়, বুকের খাঁচা ভেতরে ঢুকে যায় বা জ্বর থাকে, তাহলে শিশুর নিউমোনিয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। এ ছাড়া পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে যদি প্রস্রাব কমে যায়, শিশু নেতিয়ে পড়ে, চোখ দেবে যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইন দিতে হবে।

লেখক: সহকারী রেজিস্ট্রার, শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর

আরও পড়ুন:

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ জনে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আগস্টে আবারও ভয়াবহ রুপে ফিরেছে ডেঙ্গু। এক মাসেই ভেঙে গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় বছরের সব রেকর্ড। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি, যার মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত সাড়ে...
সংক্রামক ও তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৫৬ জন। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ...
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ...
গাজীপুরে বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি করে সরকারের সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছাড়ার অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার...
ফেনীর ছাগলনাইয়ার মুহুরীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ইউনিক পরিবহনের বাসের ধাক্কায় চালক ও সহকারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
অশুভের বিনাশ আর সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পালিত হচ্ছে শুভ জন্মাষ্টমী। উপবাস,পূজা-অর্চনা, গীতাযজ্ঞসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস,...
রাজধানীর যেকোনো জায়গায় সহজেই পাওয়া যায় মাদক। অলিগলি, রাস্তা, সড়কে-মহাসড়কে বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চলছে মাদক সেবনও।
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর