বসন্ত মানেই চারদিকে সবুজের সমারোহ আর রং বেরঙের ফুলের গন্ধ এবং পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারদিক। বসন্ত মানেই প্রকৃতি নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি। তবে, বসন্তে আমাদের ছোট ছোট সোনামনিরা নতুন প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।
এ সময় দিনের বেলা গরম অনুভূত হলেও রাতে ও ভোর রাতে ঠান্ডা পড়ে। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য আচরণে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই এ সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
করণীয়
১. শিশুদের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরতে দিন।
২. খেয়াল রাখতে হবে, ঘাম বসে শিশুর যেন ঠান্ডা না লাগে।
৩. ফ্যান ব্যবহার করলেও সহনীয় মাত্রায় দিতে হবে।
৪. শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমের তাপমাত্রা ২২-২৪ ডিগ্রি রাখুন।
৫. নবজাতক ও কম বয়সের শিশুদের স্পর্শ করার আগে সাবান অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
৬. কেউ ঠান্ডা, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ও যেখানে সেখানে হাঁচি,কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে প্রচুর ধুলোবালি থাকে। তাই রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় শিশুদের মাস্ক ব্যবহার করাটা জরুরি।
৮. বাইরের খোলা, বাসি খাবার খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।
৯. অ্যালার্জির উদ্রেক করে এমন খাবার যেমন ইলিশ মাছ, চিংড়ি, বেগুন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
১০. শিশুকে খাবার খাওয়ানোর আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
১১. শিশুকে সবুজ শাক সবজি, ফলমূল খেতে দিন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
১২.হুটহাট ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয়, আইসক্রিম খাওয়ানো যাবে না। তবে লেবু, বেল, তরমুজের শরবত শরীরের জন্য উপকারী।
১৩. শিশুর ত্বকের যত্নে নিয়মিত গোসল এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১৪. এ সময় শিশুরা ঠান্ডা–কাশির সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। সর্দিতে আক্রান্ত হলে তুলসী পাতার রস, মধু, লবণ মিশ্রিত হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গরগরা করা বেশ উপকারী।
বসন্তকালে শিশুর ত্বকে ছত্রাক ও খুজলি জাতীয় প্রদাহ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে এবং পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীকে দূরে রাখতে হবে। সপরিবারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা গ্রহণের পর জামা, কাপড়, বিছানা চাদর ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া যদি শিশু বুকের দুধ খেতে সমস্যা হয়, ঘনঘন শ্বাস নেয়, বুকের খাঁচা ভেতরে ঢুকে যায় বা জ্বর থাকে, তাহলে শিশুর নিউমোনিয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। এ ছাড়া পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে যদি প্রস্রাব কমে যায়, শিশু নেতিয়ে পড়ে, চোখ দেবে যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইন দিতে হবে।
লেখক: সহকারী রেজিস্ট্রার, শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর
আরও পড়ুন:



