ইসরায়েলের সাথে যেখানে মিলে গেছে মোদির বিজেপি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৯ পিএম

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবুধাবি সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁকে সংবর্ধনা দেয়। তিনিও প্রবাসীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। মোদির সেই সভায় রং হিসেবে গেরুয়া ও প্রতীক হিসেবে পদ্মের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, দল ও ব্যক্তি হিসেবে ভারতীয় রাজনীতিতে অনাবাসী ভারতীয়দের গুরুত্ব নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল বিজেপিই ঠিকঠাক বুঝেছে। বাকি দলগুলো এই জনগোষ্ঠীর শক্তি সেভাবে ধরতে পারেনি। এই তফাৎটিই কি বিজেপি শিবির ও নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী ম্যাজিকের অন্যতম গোপন অস্ত্র?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২ কোটি ভারতীয় পাসপোর্টধারী ছড়িয়ে আছেন। শুধু বৈধভাবে থাকাদের সংখ্যা এটি। এর বাইরে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভুতদের সংখ্যা ৩ কোটির বেশি। শেষের এই বর্গ কিন্তু জীবনের প্রয়োজনে ভারতীয় পাসপোর্ট ত্যাগ করলেও ভারতীয়ত্ব ত্যাগ করেনি। এই বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে তাঁদের পরিবার গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সন্তান-সন্ততি আছে। সবাইকে বিবেচনায় নিলে  সংখ্যাটি বেশ উল্লেখ করার মতো।

ভারতের নির্বাচন সামনে। দেশটিতে আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হবে লোকসভা নির্বাচন অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছর ভারতের শাসনভার কার হাতে থাকবে তারই পরীক্ষা। এই নির্বাচনে সংখ্যার বিচারে প্রবাসী ভারতীয়দের তেমন প্রভাব থাকার কথা নয়। কিন্তু থাকছে। কীভাবে? সে আলোচনা একটু পরে।

শুরুতে একটু দেখে নেওয়া যাক, প্রবাসী ভারতীয়দের ঘোষিত বা অঘোষিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি। কিছু তথ্যের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক শুরুতেই। আমেরিকায় গত বছরের ৮ অক্টোবর উদ্বোধন হয় স্বামীনারায়ণ অক্ষরধাম মন্দির। নিউজার্সিতে উদ্বোধন হওয়া মন্দির গড়ে উঠেছে প্রায় দুই একর জমির ওপর। অস্ট্রেলিয়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি মন্দির। এতে ব্যয় হবে সাড়ে ৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল মন্দির হতে যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে মুসলমান প্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাতেও নির্মিত হয়েছে মন্দির।

নিউজার্সির অক্ষরধাম মন্দিরে নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীতবিদেশের মাটিতে এসব মন্দির নির্মাণ এমনিতে তেমন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু এসবই ঘটনা হয়ে দাঁড়ায় তখন, যখন ভারতের শাসক দল বিজেপির মূল রাজনৈতিক অস্ত্রটির নাম–হিন্দুত্ববাদ। ফলে ভারতের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশে বড় ও ব্যয়বহুল মন্দির তৈরি সেসব দেশে থাকা প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে বিজেপির প্রভাবের সুস্পষ্ট চিহ্নবাহী।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো–এসব মন্দিরের নির্মাণব্যয়। এই নির্মাণব্যয়ের অধিকাংশ জোগাচ্ছেন প্রবাসী ভারতীয়রাই। ফলে বিজেপির ধর্মীয় কার্ডের সাথে তাদের একটি আত্মিক সংশ্লেষ ঘটে যাচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই। বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি ঠিক এই দিকটিতেই নজর দিচ্ছেন।

এবার তাকানো যাক সেই সব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে। লন্ডন বা নিউইয়র্ক কিংবা কানাডার কোনো শহর। উপমহাদেশ থেকে এসব দেশে যাওয়া লোকেরা সাধারণত কিছু এলাকায় নিজস্ব একটা জনঘনত্ব তৈরি করে। যেমন নিউইয়র্কের কুইন্স কিংবা জ্যাকসন হাইটসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি সংখ্যায় থাকেন। ফলে কুইন্স থেকে কোনো জনপ্রতিনিধি ভোটে জিতে আসতে হলে প্রবাসী সেই বাংলাদেশিদের আমলে নিতেই হয়। একইভাবে ভারতীয়দেরও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর রাজনীতিকদের আমলে নিতে হয়।

মার্চের শুরুর দিকে যেমন লন্ডনের এক গেরুয়া জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন ব্রিটিশ এক এমপি। তিনি তাঁর রাজনীতি করেছেন। আর বিজেপি বিজেপির। তাঁর ওই বক্তব্যের প্রভাব তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বা তাঁর রাজনীতিতে যেমন প্রভাব রাখছে, তারচেয়ে অনেক বেশি প্রভাব রাখছে ভারতে। ভারতীয় জনতা পার্টি দেখাতে পারছে যে, ‘দেখো ব্রিটিশ এমপিও আমাদের সঙ্গে আছে।’

এটি কেবল একটি উদাহরণ। এমন অজস্র উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। নরেন্দ্র মোদি শুরু থেকেই এই প্রবাসী ভারতীয়দের প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ও তাঁর দল প্রবাসী ভারতীয় ডায়াসপোরাকে এই অনুভূতি দিতে পেরেছেন যে, তাঁর দল ও তিনি নিজে তাঁদের বেশ গুরুত্ব দেন। তাঁদের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। ফলে এই প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় অংশই তাঁকে সমর্থন করছেন।

এমনিতেও ভারতের রাজনীতিতে শুরু থেকেই প্রবাসী ভারতীয়দের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু কিংবা ইন্দিরা গান্ধী বা মনমোহন সিং–সবাই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। এই বিদেশফেরত ভারতীয়দেরই কিন্তু নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে ভারতীয়রা। ফলে প্রবাসী ও উচ্চশিক্ষিত ভারতীয়দের ভারতের রাজনীতিতে প্রভাব বেশ ভালো।

এর সাথে আছে টাকার জোর। ভারতে রেখে যাওয়া পরিবারের কাছে প্রতিনিয়ত প্রবাসী ভারতীয়রা টাকা পাঠাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভারতীয়রা দেশটিতে সাড়ে ১২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

পাশাপাশি রয়েছে উচ্চশিক্ষা। আমেরিকায় থাকা ভারতীয়দের ৮০ শতাংশেরই রয়েছে ন্যূনতম কলেজ ডিগ্রি। তাঁদের গড় বার্ষিক আয় দেড় লাখ মার্কিন ডলার, যা আমেরিকানদের গড় আয়ের দ্বিগুণ। গুগলসহ বিভিন্ন টেক কোম্পানির শীর্ষ স্থানে আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। এমনকি ব্রিটেনে সরকারের নেতৃত্বও এখন একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূতের হাতে। ফলে প্রবাসী ভারতীয়দের প্রভাবের বলয়টি সহজেই অনুমেয়।

মধ্যপ্রাচ্যেও ভারতীয়দের দাপট বেশ ভালো। সেখানে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন শ্রেণির কাজে ভারতীয়দের অবস্থান বেশ দৃঢ়। এদের হাতে ভালো টাকা আছে। এই টাকা রাজনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের রাজনীতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের প্রভাব বলয় বেশ বড়। তাঁরা হয়তো সরাসরি ভোট দিতে পারেন না। যদিও এবারের নির্বাচনে ১ লাখ ২০ হাজার প্রবাসী ভারতীয় ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের সবাই হয়তো শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে ভারতে আসতে পারবেন না। কিন্তু তাঁরা নির্বাচনী তহবিলে টাকা দিতে পারবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে ভোটের বিচারে প্রবাসে থাকা ১ কোটি ৮০ লাখ ভারতীয়র ভোট তেমন বড় প্রভাব হয়তো রাখতে পারে না। কিন্তু প্রবাসে, বিশেষত কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি এবং তাঁদের সংগঠনগুলো ভারতের রাজনীতিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাঁদের একটি বড় অংশই ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন দিচ্ছেন।

২০২০ সালে কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস পরিচালিত জরিপের তথ্য বলছে, ভারতীয় আমেরিকানদের ৪৮ শতাংশই মোদিকে সমর্থন করেন। এর বাইরে ৩১ শতাংশ তাঁর বিরোধিতা করেন। তবে কট্টর বিরোধিতা রয়েছে মাত্র ২২ শতাংশের মধ্যে। মনে রাখা জরুরি যে, এটা ২০২০ সালের হিসাব। এর পর আরও তিন বছর কেটে গেছে। আমেরিকায় বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির ভিত আগের চেয়ে আরও পোক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আন্তরিক আতিথ্য। নিউজার্সিতে উদ্বোধন হয়েছে বড় মন্দির, যা বিজেপি ও স্বয়ং মোদির রাজনীতির একটি স্মারকও বটে।

এর একটি বড় কারণ হিসেবে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম, যার একটি বড় অংশই মোদির প্রভাবের অধীন। এসব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের একটি বড় ভোক্তা হলো প্রবাসী ভারতীয়রা। ফলে বিজেপি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষের প্রচার ও কূটনীতিসহ প্রবাসে থাকা ভারতীয়দের জন্য মোদি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বড় ভোক্তা তারা। ফলে তাদের মোদি ও তাঁর দলের দিকে ঝোঁকাটাই স্বাভাবিক।

তবে সব ছাড়িয়ে টাকাকড়ির বিষয়টিই এখানে মুখ্য। যেহেতু ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিল ও তহবিলদাতাদের হিসাব প্রকাশ্য নয়, সেহেতু প্রবাসী ভারতীয়দের পাঠানো রাজনৈতিক তহবিলের পরিমাণ অজ্ঞাত। তবে রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠানো টাকার অঙ্কের কথা তো আগেই বলা হয়েছে। মনে রাখা জরুরি যে, এই উপমহাদেশের প্রবাসীরা অনেকটা টাকার কল হিসেবে বিবেচিত। আবার অর্থ এই অঞ্চলের দেশগুলোতে সামাজিক প্রতিপত্তির চালিকাশক্তি। ফলে প্রবাসী জনগোষ্ঠী সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও প্রবাসে সফল ব্যক্তিদের সামাজিক প্রতিপত্তি তুলনায় বেশি থাকে। ভারতও এই চলের বাইরে নয়। ফলে রাজনৈতিক তহবিলের বাইরে শুধু রেমিট্যান্সের হিসাব করলেও তাদের সামাজিক প্রভাব বেশ বড়, যা রাজনীতিতে অনূদিত করা সম্ভব। বিজেপি ঠিক এই কাজটিই করছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপি ঘোষিত ইশতেহারে ডায়াসপোরার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সে সময় দলটি এই জনগোষ্ঠীকে বিশ্বে ভারতের দূত হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তাদের ভাষ্যমতে, প্রবাসী ভারতীয়রা ব্র্যান্ড ইন্ডিয়ার সত্যিকারের চালিকাশক্তি। এ ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও বিজেপি দৃষ্টিভঙ্গি এক। দেশ হিসেবে ইসরায়েল ও দল হিসেবে বিজেপি তাদের ডায়াসপোরাকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। নিজেদের তরফ থেকে এই ভাষ্য বিজেপি এত প্রবলভাবে প্রচার করেছে যে, প্রবাসী ভারতীয়রাও ক্রমে নিজেদেরকে দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে অভিন্ন বিবেচনা করছে।

এটা কতটা তা একটি তথ্যের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির হয়ে পোস্টার সাঁটা থেকে অন্য প্রচার কাজ চালানোর জন্য আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয়দের একটি সংগঠন তিন হাজার কর্মী ভারতে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। তারা একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে ভোট দিতে ২৫ লাখ ফোনকল করার ঘোষণা করেছে।

একই ধরনের পরিকল্পনা আছে বিরোধী দল কংগ্রেসেরও। কিন্তু বিজেপির শক্তি ও সামর্থ্যের তুলনায় তা নগন্য। দীর্ঘদিন দেশটিকে শাসন করলেও কংগ্রেস কখনোই সেভাবে প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে কাজ করেনি। প্রতিটি দেশেই দলটির প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন থাকলেও তারা ঠিক বিজেপির মতো করে সরব নয়। বিজেপিকে এ ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে গেরুয়া রং, যাকে তারা দল ও হিন্দুত্ববাদী রং হিসেবে সামনে আনতে পেরেছে সফলভাবে।

এ সম্পর্কিত এক বিশ্লেষণে প্রখ্যাত সাময়িকী ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, গত ২০ বছর ধরে বিদেশে, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোতে থাকা ভারতীয়দের মধ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করেছে ভারতের ডানপন্থী দলগুলো। ফলে এই সময়ে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এ ধারার দলগুলোর প্রতি সমর্থন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এর বিপরীতে মধ্যপন্থীসহ অন্য রাজনৈতিক দল ও মতের বিস্তার সেভাবে হয়নি। বিজেপি প্রবাসী ভারতীয়দের এই বোধ দিতে সমর্থ্য হয়েছে যে, দেশের রাজনীতিতে প্রবাসীদের মতের গুরুত্ব তারা দেয়। প্রবাসীদের উচিত নিজেদের মত দেওয়া এবং নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও সক্রিয় হওয়া। ফলে ভারতের রাজনীতিতে, বিশেষত নির্বাচনের সময়টাতে এই প্রবাসী ভারতীয়রা তাদের প্রভাব সংশ্লিষ্ট রাজনীতির ক্ষেত্রে বিস্তারের চেষ্টা করে।

প্রবাসী ভারতীয়দের এই প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও তার নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গোপন অস্ত্র হিসেবে কাজ করে। এই ক্ষমতা প্রবাসী ভারতীয়দের সংখ্যা নয়, বরং তাঁদের সামাজিক ও আর্থিক প্রভাব, পশ্চিমা দেশগুলোতে তাঁদের প্রচার ও বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার সাথে তাঁদের হৃদ্যতা দিয়ে বিচার করতে হবে, যা ভারতে এসে বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রবাসী ভারতীয়দের ক্ষমতাকে গুণিতক বিবেচনা করেই কাজে লাগাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি, যা থেকে বহু বহু গুণ পিছিয়ে আছে কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর তা হলো ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।‘ কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির...
​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
আমি বলছি না যে সাক্ষাৎকার নেওয়া সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমগুলো ঘুষ খেয়েছে। কিন্তু যে জনসংযোগ–লবিং প্রতিষ্ঠান এত নিখুঁতভাবে এই প্রচার অভিযান সাজিয়েছে, বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা নিশ্চয়ই মোটা...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পদ্মা ট্রেনের টিটির কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন সংলগ্ন...
সুফল পেয়ে ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। যান চলাচলের চারটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দাবি করে, সড়কে আরও দুটি অপরাধ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুরতলায় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর