বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অনুজ থাপন (৩২) পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন। তবে তা আত্মহত্যা নাকি খুন—এ নিয়ে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার।
সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল অনুজকে পাঞ্জাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে টয়লেটে গিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে পুলিশের তরফে জানানো হয়, বুধবার সকালে অনুজসহ আরও পাঁচজন লক-আপে ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে তিনি (তপন) টয়লেটে যান। যখন তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে বাইরে আসছেন না, তখন খুব চেষ্টা চালিয়ে দরজা খুলে তাকে বিছানার চাদর প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, হাজতে পরিকল্পিতভাবে অনুজকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করছে তাঁর পরিবার। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহতের ভাই অভিষেক বলেন, ‘আমরা (বুধবার) একটি কল পাই এবং আমাদের বলা হচ্ছিল অনুজ আত্মহত্যা করেছে। সে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়ার মতো (ছেলে) নয়। তাকে খুন করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’
অনুজ থাপনের আইনজীবী অমিত মিশ্রও এ ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি অভিযুক্ত চারজনই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিল আদালতে। এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের একজন মারা গেছে। এতে পুলিশের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ।’
জানা যায়, পুলিশ হেফাজতে অনুজের মৃত্যুর ঘটনায় ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং লক-আপের কাছে নিযুক্ত পুলিশকর্মীদের কোনো অবহেলা ছিল কিনা তা তদন্ত করছে সিআইডি।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তখন পাঁচজন পুলিশ লক-আপের কাছে ডিউটিতে ছিলেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরাও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আমরা জানতে পারব ঠিক কী ঘটেছে। এ ছাড়া মুম্বাইয়ের সেন্ট জর্জ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।’
তবে মুম্বাইয়ের বাইরে মরদেহের ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছেন নিহত অনুজের ভাই অভিষেক।
প্রসঙ্গত, ১৪ এপ্রিল সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি এপার্টমেন্টে হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন ভোরে চার-পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে পালিয়ে যায় দুই অজ্ঞাতব্যক্তি। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে মুম্বাই পুলিশ। ঘটনার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। তার দুদিন পর (১৬ এপ্রিল) কচ্ছ থেকে বিহারের চম্পারণ অঞ্চলের বাসিন্দা ভিকি কুমার গুপ্তা (২৫) ও সাগর কুমার পাল (২৪) নামে দুই বন্দুকবাজকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
এ ছাড়া একই সপ্তাহে পঞ্জাবের বাসিন্দা সনুকুমার সুভাষচাঁদ বিষ্ণোই (৩৫) ও অনুজ থাপন (২৩) নামে আরও দুই অভিযুক্তকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযুক্তদের মধ্যে অনুজ থাপনের মৃত্যু হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।


সালমান খানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় অস্ত্রদাতার আত্মহত্যা
মৃত্যুর হুমকি দিয়েও নিস্তার নেই, সালমানের বাড়ির সামনে গোলাগুলি
সালমানের বাসভবনে গুলি: আইনের বিশেষ ধারা প্রয়োগ, অভিযুক্ত চারজন মহাফ্যাসাদে
