আজ বিশ্ব হাঁপানি দিবস। অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ থেকে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে এবং দায়িত্ববোধ বাড়াতে প্রতি বছর বিশ্ব হাঁপানি দিবস পালন করা হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে অ্যাজমা সম্পর্কে সচেতন করা। ১৯৯৮ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। মে মাসে হাঁপানির লক্ষণ বেড়ে যায়। তাই দিবসটি পালনের জন্য এই মাসকে নির্ধারণ করা হয়।
আমাদের দেশে যে পরিমাণ বায়ুদূষণ হয়, তাতে এই রোগের ঝুঁকি কী পরিমাণ বাড়তে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যাদের হাঁপানি থাকে, তাদের প্রায় শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে। এরপর হয় কফ, কাশি, বুকে ব্যথা। হাঁপানি গুরুতর হলে তা শঙ্কার কারণ হয়ে দাড়াঁয়।
অসংক্রামক রোগের মধ্যে অন্যতম রোগ হলো হাঁপানি রোগ। বিশ্বজুড়ে ২৬ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। আর এই রোগের কারণে প্রতি বছর মৃত্যু হয় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫০ হাজার মানুষের হাঁপানি রোগ হয়।
হাঁপানি একটি শ্বাসযন্ত্রের রোগ ৷ যা সাধারণত শ্বাসকষ্ট হিসেবে পরিচিত। এর মূল উপসর্গগুলো হলো শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া। এসব উপসর্গের কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা অনুভূত হয়। এ রোগ ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। হাঁপানি আসলে ফুসফুসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রোগ, যেখানে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ঘটে। ফলে রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়।
একজন ব্যক্তি যখন শ্বাস–প্রশ্বাস নেন, তখন বাতাস নাক বা মুখ দিয়ে যায় শ্বাসনালির দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এ সময় ব্রঙ্কিয়াল টিউব বা ক্লোম নালী বাতাসকে বাহির করে দেয়। এতে শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চলমান থেকে। হাঁপানি হলে, এই ব্রঙ্কিয়াল টিউব বা ক্লোম নালিতে প্রদাহ হয়। ফলে এরা ফুলে যায় এবং শ্লেষ্মার উৎপাদন বাড়তে থাকে। এতে ক্লোম নালি পেশি শক্ত হয়ে উঠে, বায়ুপথের আস্তরণ ফুলে যায়। আর তাই বাতাসের চলাচল যায় কমে, তখন বুকে শোঁ শোঁ শব্দ হতে থাকে।
হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি উপায় হলো
১. উপসর্গ গুলো ভালোভাবে চিনতে হবে। কফ, কাশি এবং দীর্ঘস্থায়ী সর্দি, বুক ব্যথা, বুকে শোঁ শোঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট হল প্রধান উপসর্গ। এর মানে বুঝতে হবে হাঁপানি সু নিয়ন্ত্রণে নেই। বেশি কষ্ট হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে ইনহেলার।
২. যে সব জিনিস হাঁপানি উসকে দেয়, এদের চিহ্নিত করুন ও এড়িয়ে চলুন। এসব হল ধোঁয়া, পারফিউম, ভাইরাস, পরাগরেণু, ঘরে–বাইরের ধুলা, পশুর লোম, পাখির পালক, কড়া গন্ধের খাদ্য, যেমন: ইলিশ মাছ, চিংড়ি ও বেগুন। এসব এড়িয়ে চলুন।
৩. চিনে নিন ইনহেলার। রিলিভার ইনহেলার (ব্রঙ্কোডাইলেটর)–এর প্রয়োগে ছোট বায়ুপথ খুলে যায়। আর ফুসফুসের ভেতর বায়ু চলাচল অবাধ করে দেয়। স্টেরয়েড ইনহেলার ফুসফুসের প্রদাহ বন্ধ করে। এটি দীর্ঘমেয়াদি হাপাঁনি নিয়ন্ত্রণে অতীব প্রয়োজনীয়। হাঁপানির কার্যকর চিকিৎসা হলো ইনহেলার। তবে ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করতে হবে।
৪. স্পেসার ব্যবহার করতে হবে। স্পেসার হল একটি প্লাস্টিক চেম্বার, যা ইনহেলারকে একদিকে সংযুক্ত করে মুখে, আর অন্য প্রান্তে থাকে মাস্ক বা মাউথ পিস। এর মাধ্যমে বাতাস ছোট বায়ুপথের ভেতরে প্রবেশ করে।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


অ্যাজমা বা হাঁপানি কেন হয়, এর লক্ষণ কী
