দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। সাড়ে ৮ হাজার মানুষের ওপর জরিপ করে রোববার রাজধানীতে এ তথ্য প্রকাশ করে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির তথ্য বলছে, দেশে এ রোগের বাহক নারীর চেয়ে পুরুষই বেশি। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় নাগরিক সচেতনতায় জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারা দেশে দিন দিন বাড়ছে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা। জরিপের তথ্য বলছে, দেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে ১১ দশমিক ২ শতাংশ নারী ও পুরুষ ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি থ্যালাসেমিয়ার বাহক রংপুর বিভাগে আর কম সিলেটে। ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, বিবাহিত ও অবিবাহিত মোট ৮ হাজার ৬৮০ জনকে নিয়ে এই জরিপ চালায় বিবিএস।
জরিপের তথ্য প্রকাশের অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো থ্যালাসেমিয়া নিয়ে এ তথ্য প্রাথমিক ধারণা। এখন সময় এসেছে রোগটি নিয়ে সবাইকে আরও সচেতন করার। রোগ গোপন না করার পাশাপাশি রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এনডিসি সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, ‘আপনারা এটাকে জন্মগত রোগ বলেন বা হিমোগ্লোবিনের অভাবের রোগ বলেন, যাই বলেন না কেন, আরেকটি বিষয় হলো থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব। বাহক থেকে বাহক প্রবাহটা বন্ধ করতে পারলে, বন্ধ করে দিতে পারলে যদি সেরকম কোনো নীতিমালা আসে তাহলে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত একটি সমাজ, একটি দেশ ও জাতি আমরা পেতে পারি।’
এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামন সরকার জানান, বিয়ের আগে সবাইকে রক্ত পরীক্ষার ব্যাপারে আরো সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যারিয়ার টু ক্যারিয়ার বিয়েটা যদি বন্ধ করে দিতে পারি। দিতে পারি কীভাবে? এর একটি প্রক্রিয়া আছে, রক্তটা পরীক্ষা করা। ১১ শতাংশ যদি ক্যারিয়ার হয়, এটা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এটাতো আমাদের গবেষণালব্ধ, জরিপলব্ধ একটি তথ্য। এখানে তো ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জরিপের ফল বিবেচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন আশা করছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।


থ্যালাসেমিয়ার বিস্তার কীভাবে কমানো যায়?
থ্যালাসেমিয়া কী? লক্ষণ কী কী? এই রোগ প্রতিরোধে করণীয়
