আমেরিকার পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুকধারীর হামলায় আহত হয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুলিতে তাঁর কান ফুটো হয়ে গেছে। কার্যত এই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচনে জো বাইডেনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ফেলতে পারে ব্যাপক প্রভাব। এই নির্বাচনের গতিপথও পাল্টে দিতে পারে।
বিবিসির নর্থ আমেরিকা এডিটর সারাহ স্মিথ বলছেন, হামলায় ট্রাম্পের আহত হওয়া এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে হার না মানার ইঙ্গিত দেয়। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের মাধ্যমে মঞ্চ থেকে তাড়াহুড়ো করে চলে যাওয়ার এসব ছবি কেবল ইতিহাস তৈরিই করেনি। এসব ছবি আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে।
ট্রাম্পের ওপর হামলা এবং রক্তাক্ত হওয়ার এসব ছবি বেশ দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে এরিক ট্রাম্পও এসব ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকার এই ধরনের যোদ্ধাই প্রয়োজন।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলার ঘটনায় সংঘাতের-রেখা টানা হচ্ছে যা খুব কুৎসিত লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে। আর এটিই আগামী নভেম্বরের ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচারণাকে দেবে নতুন আকার।
এরইমধ্যে এ হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দিকে আঙুল তুলেছেন জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিনন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘গুলির আদেশ দিয়েছেন বাইডেন।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সিনেটর জেডি ভ্যান্স বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাইডেনের রাখা বিভিন্ন বক্তব্য সরাসরি এই ঘটনা ঘটার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাম্পের ওপর হামলার পরপরই ভাষণ দিয়েছেন বাইডেন। এ হামলার সময় ছুটিতে ছিলেন তিনি। তবে হামলার খবর শুনে ডেলাওয়্যার থেকে হোয়াইট হাউসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
ভাষণে বাইডেন বলেন, আমেরিকায় এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনও স্থান নেই। তিনি তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য উদ্বেগও প্রকাশ করেন। এরইমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপও সেরেছেন বাইডেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন এবং জিমি কার্টার সকলেই এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, হামলায় ট্রাম্প গুরুতরভাবে আহত হননি, এতেই তারা বড় স্বস্তি পেয়েছেন।
নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এ ধরনের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব বিপজ্জনক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সোফানের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কলিন ক্লার্ক। তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমেরিকান গণতন্ত্রের অবস্থার প্রতিফলন হয়েছে এই হামলার মাধ্যমে। আমরা এখন এমন চরম পর্যায়ে আছি। এখন রাজনৈতিক প্রার্থীর সঙ্গে একমত না হলেই মানুষজন এ ধরনের হামলা পর্যন্ত পৌছাচ্ছে।’
বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক আল জাজিরাকে বলেছেন, এই হামলার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে। আর এই হামলা ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে।
গত মাসের শেষ বিতর্কে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচিত হন বাইডেন। সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনে গিয়েও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ভুল করে আরও সমালোচিত হচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর বয়স ও কর্ম দক্ষতা নিয়ে। এরইমধ্যে এই হামলা ডেমোক্র্যাটিক বাইডেনকে আরও চাপের মধ্যে ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জরিপকারী সংস্থা এনপিআর/পিবিএস নিউজ আওয়ার/ম্যারিস্টের গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জনমত জরিপে, বাইডেনের জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশ ও ট্রাম্পের ৪৮ শতাংশ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন



