জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ নিয়েছিল গণঅভ্যুত্থানে। অনেকের মতে, শেখ হাসিনার মুখে তখন ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে?’—এই একটি বক্তব্যই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপরই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বেগবান হয়। বাড়তে থাকে সরকারের আগ্রাসন। বন্ধ করে দেয় ইন্টারনেট, জারি করে কারফিউ। বাড়তে থাকে ছাত্র-জনতার নিহতের সংখ্যা। আন্দোলনের শুরুর দিকে সরকারের এমন উগ্র আচরণ নিয়ে একটি গান লিখেছিলেন সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেন। শিরোনাম ‘আমি লিখতে চাইনি’।
তবে সেসময় গানটি প্রকাশ করতে পারেননি এ গায়ক। কারণ যেদিন তিনি তা প্রকাশ করবেন ভেবেছিলেন, সেদিনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সারাদেশের ইন্টারনেট। এবার শেখ হাসিনার পতনের পর প্রকাশ্যে এল হায়দার হোসেনের গাওয়া সেই গানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি গানটি প্রকাশ করে ‘ফাইসা গেছি’খ্যাত গায়ক বলেন, ‘এই গানটি আমি লিখেছিলাম কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য এবং ১৮ জুলাই আপলোড করার উদ্দেশ্যে; কিন্তু পোস্ট করার আগ মুহূর্তে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। অনেকের অনুরোধে গানটি আবার আপলোড করলাম।’
গানটির কথাগুলো এমন—‘আমি বলতে চাইনি/ তবু বলতে হয়/ আমি লিখতে চাইনি/ তবু লিখতে হয়/ এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল/ বিবেক কেমনে নির্বাক রয়?’
পাশাপাশি ছাত্র-জনতার বিজয়ের পর আরও একটি নতুন গান প্রকাশ করেছেন হায়দার হোসেন। এটির শিরোনাম ‘বিজয় উল্লাস’।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে হৃদযন্ত্রের অসুস্থতায় ভুগছেন হায়দার হোসেন। গত জুনে বেশ ক’দিন হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেসময় তাঁর হৃদযন্ত্রে একটি করোনারি স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়। তবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও নতুন গান লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন এ শিল্পী।


শঙ্কামুক্ত হায়দার হোসেন, ফিরলেন বাসায়
অসুস্থতার মধ্যেই হায়দার হোসেন গাইলেন বিজয়ের গান
