এইচএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে একদল শিক্ষার্থী। এ সময় বৈষম্যহীন ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান তারা।
রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বোর্ডের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষাবোর্ড ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে তারা অবস্থান নেয় ভবনের দ্বিতীয় তলায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নতুন নিয়মে পরীক্ষার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। যে কারণে মার্কিংয়েও ভুল হয়েছে। এতে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তারা।
এ সময় অবিলম্বে পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
গত ১৫ অক্টোবর প্রকাশ হয় এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এবছর পাসের হার ৭৭.৭৮ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী।
এতে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। গত বছর ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বছর পাসের হার কমেছে দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে গতবছরের চেয়ে এ বছর ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে।
তবে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে অনেক। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯২ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৫৩ হাজার ৫৪৬ জন।এবার এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ৩০ জুন।
সাতটি পরীক্ষা হওয়ার পর সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তখন পর্যন্ত ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি ছিল। এ ছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষাও বাকি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। পরে ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রতিবাদে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও ঘেরাও করলে এবারের এইচএসসি বা সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয় শিক্ষা বিভাগ।
এবারের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয় ম্যাপিং করে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর অংশ নেন মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ শিক্ষার্থী।



