শিল্পকলা একাডেমিতে আবারও মঞ্চে ফিরছে বিক্ষোভের মুখে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া নাটক ‘নিত্যপুরাণ’। আগামী ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এটি প্রদর্শিত হবে। বিষয়টি ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে নিশ্চিত করেছেন নাটকটির নির্দেশক ও নাট্যকার মাসুম রেজা।
জানা গেছে, এদিন দেশ নাটক প্রযোজিত নিত্যাপুরাণের ‘১২৭.৫তম’ প্রদর্শনী হবে।
মাসুম রেজা বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে যেদিন নাটকটি বন্ধ করা হয়, সেদিন আমরা ১২৭তম প্রদর্শনী করছিলাম। মাঝপথে নাটকটি বন্ধ হওয়ার কারণে ১২৭তম প্রদর্শনীটি সম্পন্ন হয়নি। আমরা যেহেতু সেদিন অর্ধেক নাটকটি করেছিলাম, এ জন্য আমরা এবার নাটকটির ১২৭.৫তম প্রদর্শনী করব। এরপর থেকে যত প্রদর্শনী হবে—এভাবেই আমরা হিসাব রাখব।’

গত ২ নভেম্বর প্রদর্শনীতে যে দর্শকরা এসেছিলেন তাদের এবার কোনো টিকিট লাগবে না বলে জানালেন মাসুম রেজা। তিনি বলেন, ‘সেদিন অনেক দর্শক টিকিট কেটেও পুরো প্রদর্শনী দেখতে পারেননি। সেদিন যে দর্শক টিকিট কেটেও পুরো নাটকটি দেখতে পারেননি, তারা টিকেটের অংশ দেখিয়ে এই প্রদর্শনী উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।’
পাশাপাশি নিরাপত্তার কথা জানতে চাইলে দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই নাট্যকার বলেন, ‘দর্শকরা নির্ভয়ে আসুন। নিরাপত্তা নিয়ে এবার কোনো শঙ্কা নেই।’
প্রসঙ্গত, নিত্যপুরাণ নাটকটির গল্প নিম্নবর্ণের সন্তান একলব্যকে ঘিরে। পঞ্চপাণ্ডবের সঙ্গে অস্ত্রবিদ্যা শেখার জন্য যিনি গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে যান। কিন্তু নিচু জাত বলে তাকে প্রথমে শেখাতে চান না দ্রোণাচার্য। যদিও এক পর্যায়ে তার কাছে ধনুর্বিদ্যা শেখার সুযোগ পান একলব্য। কিন্তু গুরুর আরেক শিষ্য পঞ্চপাণ্ডবের এক পাণ্ডব অর্জুন একলব্যের কাছে পরাজিত হন ধনুর্বিদ্যায়। তখন গুরু দ্রোণাচার্য একলব্যকে আঙুল কেটে গুরুদক্ষিণা দিতে নির্দেশ দেন। মহাভারতে বর্ণিত নিম্নবর্গের এই বীরযোদ্ধার করুণ কাহিনিই নাটকটির উপজীব্য।

২০০১ সালে এটি প্রথমবার মঞ্চে এসেছিল। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত ৮৬টি প্রদর্শনী হয়। ২০১২ সালে এ নাটকের ‘একলব্য’ চরিত্রে অভিনয় করা দিলীপ চক্রবর্তী প্রয়াত হওয়ার পর নাটকটির আর প্রদর্শনী হয়নি। প্রায় ১২ বছর পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে নাটকটি ফের মঞ্চে আসে। এর মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন কামাল উদ্দিন কবির, পোশাক পরিকল্পনা করেছেন শাহনেওয়াজ কাকলী, সংগীত পরিকল্পনায় আছেন নাসিরউদ্দিন শেখ, আবহসংগীতে ইমামুর রশিদ খান ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন নাসিরুল হক খোকন। রূপসজ্জা পরিকল্পনা করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময় এবং কোরিওগ্রাফি পরিকল্পনায় মো. আমানুল্লাহ আমান ও হিমা রয় মিতু।
নাটকে ব্যবহৃত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন লরেন্স উজ্জ্বল গমেজ, অসীম কুমার নট্ট, ইমামুর রশিদ খান, নন্দিতা বিশ্বাস, আমরিন তাসনিম জাইমা ও জারিফা তাসনিম জেমিমা। সহকারী নির্দেশক হিসেবে রয়েছেন অয়ন চৌধুরী।
এর আগে, গত ২ নভেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে বিক্ষুব্ধ জনতার চাপে ‘নিত্যপুরাণ’ মঞ্চায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন মহাপিরচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ। আন্দোলনরতদের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছেন নাট্যদলটির সচিব এহসানুল আজিজ বাবু।


নাটক প্রদর্শনী বন্ধ করা ঠিক নয়, এটি কষ্টের: তারিক আনাম খান
মেহজাবীনকে ‘তৌহিদী জনতা’র বাধা, শিল্পকলায় নাটক বন্ধ প্রসঙ্গে যা বলছে সরকার
