এনজিওগ্রাম হলো একটি নিরীক্ষা পদ্ধতি, যেখানে এক্সরে বা অন্যান্য চিত্রায়ণের মাধ্যমে রক্তনালির ভিতরে রক্তপ্রবাহের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এই পরীক্ষায় শরীরে একটি কনট্রাস্ট ডাই (বিশেষ রঙ) প্রবেশ করানো হয়, যা রক্তনালির অবস্থা স্পষ্ট করে তোলে। রক্তনালিতে ব্লকেজ বা সংকীর্ণতা থাকলে এটি শনাক্ত করা সহজ হয়।
এনজিওগ্রাম কেন করা হয়?
এনজিওগ্রামের মাধ্যমে চিকিৎসক বিভিন্ন রোগ, যেমন: করোনারি আর্টারি ডিজিজ, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ, রক্তজমাট বাঁধা বা অ্যানিউরিজম শনাক্ত করতে পারেন। রক্তনালির ক্ষতি বা বাধা সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্য এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা করার জন্য এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
এনজিওগ্রামের আগে চিকিৎসক রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা এবং কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করতে পারেন। পরীক্ষার দিন সকালে শুধুমাত্র স্বচ্ছ তরল পান করতে হবে এবং গয়না বা মূল্যবান জিনিস বাড়িতে রেখে আসতে হবে।
এনজিওগ্রামের সময় কী হয়?
এনজিওগ্রামের সময় হাতের কব্জি বা কুঁচকির উপরে অবশ করা হয়। এরপর একটি সূক্ষ্ম টিউব বা ক্যাথেটার রক্তনালিতে প্রবেশ করানো হয়। এই টিউব দিয়ে কনট্রাস্ট ডাই প্রবাহিত করা হয়, যা এক্সরে মনিটরে রক্তপ্রবাহের ছবি দেখায়। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য শরীর গরম অনুভব হতে পারে।
পরীক্ষা শেষে কী করবেন?
পরীক্ষার পরে ক্যাথেটার সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রক্তক্ষরণ এড়াতে ব্যান্ডেজ লাগানো হয়। হাতের কব্জিতে কমপক্ষে চার ঘণ্টা এবং কুঁচকির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ব্যান্ডেজ চেপে রাখা হয়। এরপর বাড়ি ফিরে ভারী কাজ বা ওজন বহন থেকে দুই দিন বিরত থাকতে হয়।
এনজিওগ্রামের ঝুঁকি
এনজিওগ্রামের ঝুঁকি খুব কম হলেও সামান্য কিছু জটিলতা হতে পারে, যেমন– রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ বা রক্তনালির আঘাত। কনট্রাস্ট ডাইয়ের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে তা জানিয়ে দেওয়া জরুরি। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাই ব্যবহার করার কারণে কখনো কখনো ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হতে পারে।
ফলাফল ও চিকিৎসা
পরীক্ষার পর চিকিৎসক ব্লকেজের মাত্রা নির্ধারণ করেন। ছোট ব্লকেজ থাকলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন বা ওষুধের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বড় ব্লকেজ থাকলে এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
এনজিওগ্রাম হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা যা রক্তনালির স্বাস্থ্য নির্ণয়ে কার্যকর। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকলে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন।
লেখক: বিশেষজ্ঞ কার্ডিয়াক সার্জন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট


ডায়াবেটিস রোগীর মুখের যত্ন
আচার খেলেও কি ওজন বাড়ে?
