হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেছেন, ‘এটা দুপক্ষের সংঘর্ষ নয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর একপক্ষের হামলা। সাদপন্থীরা হামলা করেছে ঘুমন্ত মানুষের ওপর।’
বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় আজ বুধবার সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ দাবি করেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, ‘এটা দুপক্ষের সংঘর্ষ নয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর একপক্ষের হামলা। সাদপন্থীরা হামলা করেছে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। হামলার তথ্য ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। দায়ীদের আজকের মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে হবে। বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই করার কথা জানিয়েছে আইন‑শৃঙ্খলা বাহিনী।’
সরকারের পদক্ষেপের প্রতি সংহতি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্তণে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটার সাথে আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। ইজতেমা মাঠে যেসব জিনিস রয়েছে, তা পাহারা দিতে পুলিশের সাথে তাবলীগের লোকবল থাকবে।’
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাঠ দখল নিয়ে ওই দুই পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে চারজন নিহত ও আহত হয়েছেন শতাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তুরাগ নদের দুই পাশসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সভা‑সমাবেশ, মিছিল‑বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি।
সাদপন্থীরা রাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ‘তারা (সাদপন্থী) দেশবিরোধী শক্তির দোসর হিসেবে কাজ করছে। তাদের প্রতিহত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাদপন্থীদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছি। আশা করছি সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’
তবে সাদপন্থীদের নিষিদ্ধের দাবি জানালেও নিজেদের মধ্যকার বিরোধকে আবার দৃষ্টিভঙ্গিগত বলে মনে করেন মামুনুল। এমনকি তিনি এই বিরোধ কমিয়ে সাদপন্থীদের সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টার কথাও বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দৃষ্টিভঙ্গিগত দূরত্বের কারণেই মতবিরোধ। সেটি কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তাদেরকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা চলমান। এ পর্যন্ত দুবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি সাদপন্থীরা করেছে। তারা যে ঘটনা ঘটিয়েছে, সে হিসেবে সাদপন্থীদের ইজতেমার সুযোগ নেই। কারণ তারা তাবলীগের নামে যে কাজ করেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে সাদপন্থী মাওলানা মুয়াজ বিন নূর জানান, সাদপন্থীরা ইজতেমা মাঠে থেকে জোড় ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছেন। যারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে তাদেরকেই হত্যার দায় নিতে হবে বলে জানান তিনি।
টঙ্গী অভিমুখে লং মার্চের বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘ছাত্র‑জনতাকে নিয়ে যে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল, সেটি বন্ধে সরকার অনুরোধ করেছে। বিষয়টি ওলামা সম্মেলনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকারের সাথে কাজ করব।’
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আহতদের সুচিকিৎসায় সহায়তা করা হবে। খুনিদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আলোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতরাতে হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তি‑শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরত্ব পেয়েছে। প্রথমে সাদপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন উপদেষ্টারা। পরে জুবায়েরপন্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপদেষ্টারা।


ঢামেক থেকে সাদপন্থী কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
