টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে চলমান সংকট নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে ইজতেমা মাঠ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাদপন্থীরা। এসময় সাদপন্থী গ্রুপের প্রতিনিধি মাওলানা রেজা আরিফ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা যেহেতু মাঠ ছেড়ে দিয়েছি, ওনারা যেন দেশের স্বার্থে, ইসলামের স্বার্থে কোনো রকম সমস্যার চেষ্টা না করেন। ওনারা যেন রাস্তায় নেমে না আসেন বা কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার না করেন।’
আজ বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের একথা জানান সাদপন্থী গ্রুপের প্রতিনিধি মাওলানা রেজা আরিফ।
এদিকে জুবায়েরপন্থীরা অভিযোগ করেন, সাদপন্থীরাই সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। সাদ পন্থীদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জুবায়েরপন্থী নেতা ও খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেন, ‘এটা দুপক্ষের সংঘর্ষ নয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর একপক্ষের হামলা। সাদপন্থীরা হামলা করেছে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। হামলার তথ্য ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। দায়ীদের আজকের মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে হবে। বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই করার কথা জানিয়েছে আইন‑শৃঙ্খলা বাহিনী।’
সরকারের পদক্ষেপের প্রতি সংহতি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্তণে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটার সাথে আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। ইজতেমা মাঠে যেসব জিনিস রয়েছে, তা পাহারা দিতে পুলিশের সাথে তাবলীগের লোকবল থাকবে।’
এর মধ্যেই সাদপন্থীরা ইজতেমা মাঠে থেকে জোড় ইজতেমা করার ঘোষণা দেন। সাদপন্থী মুখপাত্র মুয়াজ বিন নূর বলেন, ‘যারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে তাদেরকেই হত্যার দায় নিতে হবে।’
এদিকে, হত্যায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাদপন্থীদের জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার মধ্যে রাতে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন নিহত হয়। ইজতেমা নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে শেষ পর্যন্ত উত্তরা থেকে টঙ্গীর কিছু এলাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করলো প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইজতেমা মাঠের আশপাশে বুধবার সকালে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়।
এদিকে, সংঘাতে আহতদের ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে সেখানে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে মহিদুল হাসান (২২) নামে এক সাদপন্থী যুবককে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠে মাওলানা জুবায়েরপন্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে।


সাদপন্থীরা ঘুমন্ত মানুষের ওপর হামলা করেছে: মামুনুল হক
ঢামেক থেকে সাদপন্থী কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
