এখন চলছে শীতকাল, মানে পিঠা খাওয়ার সময়। পিঠা অনেকের প্রিয় একটি খাবার। আবার এখন বছরের শেষ সময়। মানে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। ছেলেমেয়েদের হাতে অফুরন্ত সময়। তাই ছুটিতে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। আর গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়–স্বজন গেলে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়বে না, এমনটা ভাবা যায় না।
তবে, এখন শুধু বাড়িতে নয়, রাস্তায় কিংবা হাটবাজারেও হরেক রকম পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়। তাই পিঠা খাওয়ার জন্য কাউকে বাড়ি কিংবা বাসা পর্যন্ত অপেক্ষায় করতে হয় না। মন চাইলে যে কোনো সময় পিঠা কিনে খেতে পারেন। বিশেষ করে বিভিন্ন রকমের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা অনিয়াসে খেতে পারেন। এর পাশাপাশি গরম গরম ভাপা পিঠা আর ভ্যানভর্তি প্যাকেট পিঠা তো আছেই।
শীতে বেশির ভাগ পিঠা তৈরি করা হয়, চিনি, গুড়, চালের গুঁড়া, ময়দা ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে। আর এখানে সমস্যা বাধে ডায়াবেটিস রোগীদের। কারণ তারা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে পারেন না। তবে, ডায়াবেটিস রোগীরা যদি পিঠা খাওয়ার সময়টাতে একটু সচেতন হন, তবে এই সমস্যার সমাধান তারা নিজেরাই করতে পারেন।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘শীতে পিঠা খাওয়া হবে না, তা মেনে নেওয়া কঠিন। বেশিরভাগ পিঠা চাল দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। চাল যেহেতু শর্করাজাতীয় খাবার, তাই ডায়াবেটিস রোগীরা ভাত বা রুটির বদলে পিঠা খেতে পারেন। তবে, এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হবে। যেমন– সকালে বা রাতে রুটির পরিবর্তে ডায়েটে চিতই পিঠা, চাপটি, খোলাজা পিঠা, মেরা পিঠা, কম মিষ্টি ভাপা পিঠা বা পাটিসাপটা রাখা যেতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে দুধ খেতে খুব বেশি সমস্যা নেই। তাই চালের গুঁড়ার সঙ্গে দুধের মিশ্রণে কোনো পিঠা অনায়াসেই খেতে পারেন। এর পাশাপাশি অবশ্যই সন্ধ্যায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত হাঁটতে হবে।
শীতকাল শুধু পিঠা খাওয়ার সময় নয়। বরং বিভিন্ন শাক-সবজির খাওয়ার সময়। শাক-সবজিতে বিভিন্ন রকম ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবারের সঙ্গে বিভিন্ন রকম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরার মতে, পিঠে পুলির পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি খেলে গ্লাইসেমিক লোড বা শর্করার আধিক্যের কারণে রক্তের গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসে।
পুষ্টিবিদ ফাতেমা তুজ জোহরার মনে করেন, ইচ্ছামতো পিঠাপুলি খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা পিঠা খাওয়ার আগে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, দেখে নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


অতিরিক্ত ফল খাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে জানেন কি?
গালে টোল পড়ার কারণ জানেন কি?
