ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে কাঠের আসবাবের কোনো বিকল্প নেই। কাঠের দৃষ্টিনন্দন ডাইনিং টেবিল বা বুকশেলফ, যা-ই থাক না কেন। আপনার ঘরের চেহারাই যেন পাল্টে দেবে। এটি ঘরের পরিবেশে উষ্ণতার ছোঁয়া আনে। আর কাঠের আসবাবের আরেকটি বড় গুণ হলো, এটি একদিকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী, অন্যদিকে যত্ন নেওয়া বেশ সহজ। যারা খুব একটা রক্ষণাবেক্ষণের মন দিতে চান না, তাদের জন্য কাঠের আসবাবপত্র নিঃসন্দেহে ভালো অপশন।

ভারতীয় ফার্নিচার ব্র্যান্ড উটিকের সিইও ধ্রুব পারেখ বলেন, ‘এখন বিভিন্ন ধরনের আসবাব বাজারে পাওয়া গেলেও কাঠের ফার্নিচারের কদর কখনও কমবে না। এটি বছরের পর বছর আপনার ঘরের সৌন্দর্য অটুট রাখবে। যা নামি দামি অন্য ম্যাটেরিয়ালের আসবাব দিয়ে সম্ভব নয়। তবে কাঠের আসবাবের জন্য বাড়তি যত্নে দরকার।’
কাঠের আসবাবপত্রের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো, এটি অনেক বছর ভালো থাকে। তবে তার জন্য নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন হয়। এসব আসবাব ভালো রাখতে চাইলে নিয়ম করে পরিষ্কার করা, ধুলা ঝাড়া এবং মাঝে মাঝে পালিশ করতে হবে। কাঠের ফার্নিচার ভালো রাখতে এই নিয়মগুলো মানতে হবে।
প্রতিদিনের ধুলা পরিষ্কার
কাঠের আসবাবপত্র যদি আপনি নতুনের মতো ঝকঝকে রাখতে চান। তবে নিয়মিত ধুলা ঝাড়তে হবে। সেই সঙ্গে নরম কাপড় দিয়ে মুছেও রাখতে পারেন। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত ১-২বার ধুলা ঝাড়ুন। এতে ধুলো-ময়লা জমে কাঠের উপর স্তর তৈরি করতে পারবে না। ফলে আপনার ফার্নিচারের কাঠের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও টেক্সচার ঠিক থাকবে।
বছরে একবার পালিশ করা
কাঠের আসবাবপত্রের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রতি ছয় মাস বা বছরে একবার ভালো মানের কাঠের পালিশ ব্যবহার করুন। এটি শুধু আসবাবপত্রকে চকচকে করবে না, বরং কাঠের পৃষ্ঠে একটি সুরক্ষার স্তর তৈরি করে ক্ষতির সম্ভাবনাও কমাবে। বছরে একবার মোম পালিশ করাতে পারেন। এটি একদিকে কাঠের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে, অন্যদিকে সুরক্ষা দেয়।
সুরক্ষিত রাখুন তাপ ও সূর্যের আলো থেকে
কাঠ সরাসরি সূর্যের আলো বা অতিরিক্ত তাপে ফিকে হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় কাঠ বাঁকাও হয়ে যেতে পারে। তাই কাঠের আসবাবপত্র এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না। তাছাড়া ঘরে ইউভি রশ্মি ঠেকাতে পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। রেডিয়েটর, হিটার বা ভেন্টের কাছে কাঠের আসবাবপত্র রাখবেন না। কারণ তাপ কাঠ শুকিয়ে আপনার ফার্নিচার নষ্ট করে দিতে পারে।
পানি পড়লে দ্রুত পরিষ্কার করুন
কাঠের আসবাবপত্র টেকসই হলেও, পানি বা তরল জাতীয় কিছু পড়লে দ্রুত তা পরিষ্কার করা ভালো। মসৃণ ও শুকনো কাপড় দিয়ে পানি মুছে ফেলুন। যাতে দাগ বা আর্দ্রতার ক্ষতি না হয়। তার জন্য বিশেষ কোনো ক্লিনারের দরকার নেই। কেবল একটা শুকনা ও নরম কাপড় হলেই যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


হঠাৎ অতিথি! চিন্তা নেই, ঘর গোছান ১০ মিনিটে
সহজেই গোছাতে পারেন ঘর, কীভাবে? জানুন
