মানুষের মস্তিষ্কে আছে অগণিত স্নায়ুকোষ। স্নায়ুকোষ থেকে তৈরি হয় রাসায়নিক উপাদান ডোপামিন। কিন্তু এই ডোপামিনের উৎপাদন যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন স্নায়ুকোষ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন মানুষ পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়। পারকিনসন্স হচ্ছে এমন এক শারীরিক অবস্থা যেখানে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের একটি অংশ ঠিকমতো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে বহু স্নায়ুকোষের মৃত্যু হয়।
পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হলে চলাফেরায় সতর্ক থাকতে হবে, নিজেকে ভারসাম্যহীন মনে হলে একজন সহযোগী রাখতে হবে। পারকিনসন্স রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। কারণ লক্ষণগুলো সাধারণত হালকা হয়। তবে রোগীকে চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি উপকারে আসতে পারে।
পারকিনসন্স রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো বিশেষ পরীক্ষা নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে পারকিনসন্স রোগ নির্ণয় করা হয়, যদি হাত পায়ের মাংসপেশি শক্ত হয়, বিশ্রামের সময় হাতের কাঁপুনি হয় এবং চলাফেরা, নড়াচড়ার ধীরতা থাকে বা এই উপসর্গগুলোর মধ্যে যে কোনো দুটি উপসর্গের উপস্থিত থাকে, তবে রোগী পারকিনসন্স রোগে ভুগছেন বলে ধরে নেওয়া যায়।
পারকিনসন্স রোগের ৫ টি পর্যায় রয়েছে। পর্যায়গুলো হলো:
পর্যায় ১: হালকা লক্ষণ ও উপসর্গ। উদাহরণস্বরূপ, হাঁটার সময় শরীরের এক হাতে কাঁপুনি হয় এবং এটি দৈনন্দিন কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে না।
পর্যায় ২: শরীরের উভয় পাশের হাতে কাঁপুনি হয় এবং লক্ষণগুলি আরও খারাপ হয়। যদিও ব্যক্তি দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।
পর্যায় ৩: লক্ষণগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ। এই পর্যায়ে রোগীর নড়াচড়ার মন্থরতা হয়, হাঁটা–চলার সময় ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
পর্যায় ৪: লক্ষণগুলো গুরুতর এবং রোগীর সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কারণ রোগীর পক্ষে একা থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পর্যায় ৫: এই পর্যায়ে রোগী হাঁটতে বা দাঁড়াতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং কখনও কখনও তার হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রম হয়।
পারকিনসন্স রোগ প্রতিরোধ
পারকিনসন্স রোগ প্রতিরোধে সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং ফল ও শাকসবজি খেতে হবে। স্ট্রোক, মস্তিস্কে সংক্রমণ, মস্তিস্কে আঘাত এবং উইলসন ডিজিজ-এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চালাতে হবে, কারণ এই রোগগুলোর সঠিক চিকিৎসা না করালে পারকিনসন্স রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত বেশির ভাগ লোককে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন নামে এক ধরনের সার্জারি ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে পালস জেনারেটর দ্বারা একটি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক প্রবাহ উৎপন্ন হয়, যা তারের মধ্য দিয়ে চলে এবং মানুষের মস্তিষ্কের সেই অংশকে উদ্দীপিত করে, যা পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়। যদিও সার্জারি পারকিনসন রোগ নিরাময় করে না, তবে এটি কিছু লোকের উপসর্গগুলোকে সহজ করতে পারে।
লেখক: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, পরিচালক, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, চট্টগ্রাম


যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত
জন্মগত হৃদরোগের কারণ কী? প্রতিকারের উপায় কী হতে পারে
