নয়া বিশ্ব: ‘দ্য ডেথ অব দ্য ওয়েস্ট’

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৫, ০১:০২ পিএম

১৯৫২ সালে প্রকাশিত ‘উইটনেস’‑এর মতোই আরেকটি বই হচ্ছে ‘সুইসাইড অব দ্য ওয়েস্ট’। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত বইটির লেখক জেমস বার্নহ্যাম, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর রক্ষণশীল ধারার মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক চিন্তক। বার্নহ্যাম আন্তর্জাতিকতাবাদের সমালোচক। এর বিপরীতে তিনি দাঁড় করান স্থানিকতা ও রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদকে।

সুইসাইড অব দ্য ওয়েস্ট বইটির ওপর ১৯৬৪ সালের ৪ অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমসে একটি আলোচনা প্রকাশিত হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই আলোচনায় বার্নহ্যামকে এক রকম কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। বিস্ময়ের কিছু নেই। নিউইয়র্ক টাইমস ঘোষিতভাবেই ডেমোক্রেটিক মূল্যবোধের অনুসারী ও প্রচারক। নিউইয়র্ক টাইমসের ওই লেখায় বলা হচ্ছে, মার্কিন রক্ষণশীল ভাষ্যকারদের মধ্যে জেমস বার্নহ্যাম ‘ম্যানেজারিয়াল রেভুলিউশনের’ প্রবক্তা। বইটিতে তিনি বলছেন, পশ্চিমা সভ্যতা নিজের অঞ্চল ও মানুষদের নিয়ে কমিউনিস্টদের কাছে আত্মসমর্পণ করছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই প্রবণতা রোখার কোনো সক্ষমতা উদারবাদের তো নেই‑ই, বরং এর গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে এই আদর্শ। তিনি এর বিপরীতে ত্রাতা হিসেবে রক্ষণশীলতার প্রস্তাব করেন। শুধু তাই নয় শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাবও রাখেন। শান্তির বদলে তিনি স্বাধীনতার কথা বলেন। আবার সেই স্বাধীনতা বা স্বাধীনতা রক্ষার ধারণাটিও সামরিকীকরণকে একমাত্র উপায় হিসেবে হাজির করেন। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প, সিনেমা ইত্যাদি নানা মাধ্যমে নাৎসিবাদ বিরোধী যে একমুখী প্রচার, তা বন্ধ করা দরকার। কারণ, সেই সময়ের কমিউনিজমের ‘ভূত’ ছাড়াতে নাকি এ ধরনের জাতীয়তাবাদী প্রকল্পই প্রয়োজন।

হুইটেকার ও বার্নহ্যামের পথ ধরেই মঞ্চে হাজির হন প্যাট বুকানন। ২০০২ সালে ‘দ্য ডেথ অব দ্য ওয়েস্ট’ নামের বই প্রকাশ করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের এ পরামর্শক। তাঁর দৃষ্টিতে ‘বৈশ্বিক পুঁজিবাদ ও সত্যিকারের রক্ষণশীল অনেকটা হাবিল‑কাবিলের মতো’। কী সেটা? তাঁর মতে, বিশ্বায়ন আসলে অভিজাতদের প্রকল্প। এটি গরিব শ্বেতাঙ্গদের দারিদ্র্যের কারণ। সত্যিকারের দেশপ্রেমীদের এই বিশ্বায়ন কাঠামো ভেঙে দেওয়া উচিত।

বৈশ্বিক অর্থনীতিই এখন বড় পরিবর্তনের জমানায় প্রবেশ করেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব তার শেষ ধাপে এসে হাজির। আর এই ধাপে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাঁদেরই এখন মার্কিন, চীন বা রুশ প্রশাসন বা তার আশপাশে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি মোঘলদের উপস্থিতি এখন প্রবল। আর এই প্রাবল্যের কারণেই অর্ধপরিবাহী (সেমিকন্ডাক্টর) বা বিরল খনিজ নিয়ে এত তোলপাড়। কারণ, এগুলোই আসন্ন জমানার মুখ্য জ্বালানি।

মোটাদাগে এই তিনটি বই এবং এগুলোর সারবস্তুই আসলে হালের মার্কিন রক্ষণশীলতার দুর্গকে চিনতে সহায়ক। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যে রক্ষণশীলতার ভাষ্যটি সামনে আসছে, তা একইসঙ্গে খ্রিষ্টান ধর্মবাদ, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ, কট্টর জাতীয়তাবাদ ইত্যাদিকে সামনে আনছে। পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ উদারবাদী যেকোনো গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করা এবং সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বকাঠামোয় উদারবাদী মার্কিন প্রভাববলয় হিসেবে চিহ্নিত নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রীতিনীতিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়ার কাজটিও তিনি করছেন।

 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের দিকে তাকালে এমনকি কথায় কথায় ‘কমিউনিস্ট’ শব্দবন্ধ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করার চেষ্টাটি চোখে পড়বে। তাঁর দৃষ্টিতে বারাক ওবামা একজন কমিউনিস্ট, ঠিক যেমন বার্নি স্যান্ডার্স।

বাকিরা কোন পথে?
আন্তর্জাতিকতাবাদের বদলে আঞ্চলিকতাবাদকে পছন্দ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প পাশে পেয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন, শি জিনপিং, নরেন্দ্র মোদি ও রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে। ভ্লাদিমির পুতিন যেমন মধ্যপ্রাচ্যের রাশিয়াকরণ, শি জিনপিং যেমন আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ আমেরিকার চীনাকরণ, মোদি যেমন অপরাপর দেশের ভারতীয়করণ বা এরদোগান যেমন ইরান বা আরব বিশ্বের তুর্কিকরণ–সে অর্থে চান না, ট্রাম্পও তেমন আমেরিকাকরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চান। তাঁরা প্রত্যেকেই ঘোষিত ‘নিজ নিজ সভ্যতাকে’ নিজের গণ্ডিতে রেখে বাকি বিশ্বে নিজের প্রভাববলয়ের প্রসার চান।

ফলে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি এই নেতারা নিজ নিজ দেশের সীমান্তরেখা নিয়েও সমভাবে চিন্তিত ও ক্রিয়াশীল। চীন তাইওয়ান প্রসঙ্গে অন্য কোনো দেশ বা জাতিসংঘের ভাষ্য শুনতে রাজি নয়। এ ক্ষেত্রে তাদের পররাষ্ট্রনীতি বা নীতিটি হচ্ছে–প্রেসিডেন্ট শি যা বলেন, তাই। একইভাবে ইউক্রেন প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথাই শেষ কথা। এখানেও সীমানা বিস্তার বা দাবি করা অঞ্চলকে একীভূত করাই মুখ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও অমীমাংসিত সীমান্ত হিসেবে চীন ও পাকিস্তান সংলগ্ন অংশে নিজেদের রেখাটি গভীর করে টেনে দেওয়াটা অগ্রাধিকার। তুরস্কের ক্ষেত্রে এই সীমানা সীমানা ডিঙিয়ে আজারবাইজান বা সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানেও এরদোগান যত দূর বলবেন, তত দূরই তুরস্ক।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্সপুতিন যেখানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা বলেন, মোদি সেখানে রামরাজত্বের কথা বলেন, এরদোগান বলেন অটোমান সাম্রাজ্যের কথা, শি বলেন মহান চীন ও তার সভ্যতার কথা। সেখানে ট্রাম্প চুপ থাকবেন কেন? তিনি বলছেন, মার্কিন মুলুক বিস্তারের কথা। প্রস্তাব রাখছেন নানা তরফে তাঁর মুলুকে ঢুকে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ইত্যাদিকে অঙ্গরাজ্য বনে যেতে। হ্যাঁ, সৌদি আরবকে এখানে ধর্তব্যে নেওয়া উচিত। কিন্তু বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় দেশটি মাত্রই ঢুকতে শুরু করেছে। জ্বালানি তার অস্ত্র। কিন্তু সে অস্ত্র তো মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক অঞ্চলের অনেক দেশেরই আছে। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ঠিকঠাক করতে পারলে, সমরবিদ্যা, কৌশল ও সরঞ্জাম ইত্যাদি ধার নয় উদ্ভাবন করতে পারলে এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জ্বালানি হিসেবে বিরল খনিজের মালিকানায় ভাগ বসাতে পারলে তারাও বিবেচ্য হবে নিশ্চিত। 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যেমন চীনই মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে চীনকে মোকাবিলায় ব্রিকসের বাকি দুই শক্তিশালী পক্ষ রাশিয়া ও ভারতকে কাছে টানার কৌশল মুখ্য হয়ে উঠছে তাদের কাছে। অঞ্চলে অঞ্চলে সাবেক নানা এজেন্সি বা জাতিসংঘের মতো বহুজাতিক মুখোশে থাকা মার্কিন মুখপাত্রের বদলে এই কৌশল অনেকটাই দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় কৌশলের দিকে এগোচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে এই দেশগুলোর প্রচারযন্ত্রও কাজ করছে। ভ্লাদিমির পুতিন যেমন ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন পাঠক্রম চালু করে দিয়েছেন, যার একটি নমুনা উঠে এসেছে পাভেল তালাঙ্কিন নামের এক রুশ ব্যক্তির পরিচালিত ‘মি. নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন’ শিরোনামের ডকুফিল্মে। সেই পাঠক্রমে জোসেফ স্তালিনকে মহিমান্বিত করা হচ্ছে, বলা হচ্ছে সাবেক সোভিয়েত গৌরবের কথা। বলা হচ্ছে রাশিয়াই হচ্ছে সেই ত্রাতা, যে পারে বিশ্বকে বাঁচাতে। এটা কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে একেবারে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত চলছে। এমনকি সাবেক সোভিয়েত জমানার পর ২০২২ সাল থেকেই আবার স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের কোর্স চালু করা হয়েছে।

চীনের টিভি সিরিয়াল থেকে শুরু করে সিনেমা–সব খানে একটা বড় অংশজুড়েই রয়েছে চৈনিক সভ্যতাকেন্দ্রিক নানা প্রচার। চীন তার ঐতিহাসিক পথটি থেকে সরছে না। তারা প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সেই পুরোনো অস্ত্রটিই (ব্যবসার) প্রয়োগ করছে। ‘যুদ্ধ না করেই যুদ্ধ জয়’ করার পুরোনো নীতিটিই তারা অনুসরণ করছে। সান ঝুর ‘আর্ট অব ওয়ার’ এই নীতিরই প্রচার করে।

সভ্যতা ও গৌরব‑কেন্দ্রিক প্রচার চালাচ্ছে তুরস্কও। সেখানে জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘দিরিলিস’ বা ‘সুলতান সোলেমান’‑এর সেটে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন এরদোগান। ভারতে রামরাজত্ব তো বটেই, পাকিস্তান‑ভারত যুদ্ধ, চীনের সাথে গোয়েন্দা লড়াই–সবই উঠে আসছে নানা সিনেমা ও সিরিয়ালে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ছবি: রয়টার্সফলে এই রাজন্যবর্গ একই পথে হাঁটছেন বলা যায়। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশে পরিচয়বাদী রাজনীতির আগুনে জ্বালানি ঢালছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় বাকিদের ‘অপর’ ঘোষণা করছেন। এই অপরায়ণ ‘পশ্চিমা বিশ্ব’ বা ‘পশ্চিমা সভ্যতা’ চর্চিত বিগত অপরায়ণ নয়। এই অপরায়ণ নিজ নিজ বলয়ে থাকা আঞ্চলিক মিত্র ও শত্রুকে নতুন করে চিহ্নিত করার মাধ্যমে ঘটে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যেমন চীনই মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে চীনকে মোকাবিলায় ব্রিকসের বাকি দুই শক্তিশালী পক্ষ রাশিয়া ও ভারতকে কাছে টানার কৌশল মুখ্য হয়ে উঠছে তাদের কাছে। অঞ্চলে অঞ্চলে সাবেক নানা এজেন্সি বা জাতিসংঘের মতো বহুজাতিক মুখোশে থাকা মার্কিন মুখপাত্রের বদলে এই কৌশল অনেকটাই দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় কৌশলের দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ, বহুজাতিকতার মধ্যে নানা ধরনের পকেট সৃষ্টি হয়েছে। এই পকেটগুলোই বিশ্বের বাকি দেশগুলোর ভবিষ্যৎ ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠবে, তাদের নিজস্ব স্বার্থ সমীকরণে ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে।

এমন কিছু তৎপরতা নিকট অতীতে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়েছে। এর মধ্যে চীন‑ভারত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক, রাশিয়া‑চীন ঐতিহাসিক সম্পর্ক কিন্তু জোট গঠন না করা, যুক্তরাষ্ট্র‑রাশিয়া বৈঠক এবং আরও বৈঠকের সম্ভাবনা সৃষ্টি, ইউরোপকে ‘পশ্চিমা সভ্যতা’ বা ‘বিশ্ব’ ধারণা থেকে ছেঁটে ফেলে পুরোমাত্রায় ‘মার্কিন গৌরবের’ প্রত্যাবর্তন চেষ্টা ইত্যাদির মধ্যে এ ধরনের পকেটের ইঙ্গিত রয়েছে, যা অংশীজন সংখ্যায় ছোট হলেও শক্তিতে কৃষ্ণগহ্বরের তুল্য। এমনকি কোনো কোনো বিশ্লেষক চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া মিলে অক্ষশক্তি তৈরি হচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন।

ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে অন্য শক্তিধর দেশগুলোর মৈত্রী ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে ঘনঘন বৈঠক করছে, যা সামনের দিনে আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা যায়। কারণ, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এক মেরুর গতিপথ বলে দিচ্ছে কোনো কিছুই আর ‘আলোচনা বা সমঝোতার’ বাইরে নয়। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ফেরিওয়ালার কাছে এসবই এখন তুচ্ছ। নিজ নেতৃত্বে অক্ষ গড়তে যে কারও সাথেই যেকোনো আলোচনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুরোনো ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ অবস্থানটি অনূদিত হচ্ছে ‘চীনবিরোধী’ অবস্থান হিসেবে।

আর এসব ঐকমত্য তৈরিতে ‘ম্যানেজারিয়াল বা টেকনোক্র্যাট’ প্রশাসন সামনে চলে আসছে। এর কারণ অবশ্য না বললেও চলে। বৈশ্বিক অর্থনীতিই এখন বড় পরিবর্তনের জমানায় প্রবেশ করেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব তার শেষ ধাপে এসে হাজির। আর এই ধাপে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাঁদেরই এখন মার্কিন, চীন বা রুশ প্রশাসন বা তার আশপাশে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি মোঘলদের উপস্থিতি এখন প্রবল। আর এই প্রাবল্যের কারণেই অর্ধপরিবাহী (সেমিকন্ডাক্টর) বা বিরল খনিজ নিয়ে এত তোলপাড়। কারণ, এগুলোই আসন্ন জমানার মুখ্য জ্বালানি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়লা পোড়ানো বা প্রথাসিদ্ধ জ্বালানির দিকে ফেরার তাগিদটাও এই সূত্রের সঙ্গে মিলে যায়। কারণ, কয়লাশক্তির বর্জ্য থেকেও বিরল খনিজ পাওয়া সম্ভব। গ্রিনল্যান্ড বা ইউক্রেন ইত্যাদির হিসাবও এই জ্বালানি রাজনীতি বা দখলের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত। (চলবে)

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

আগের পর্বগুলো পড়ুন

পর্ব ১: নয়া বিশ্ব: ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে পৃথিবীটা কেমন চান
পর্ব ২: নয়া বিশ্ব: শি, পুতিন, মোদি বনাম নিঃসঙ্গ ইউরোপ
পর্ব ৩: নয়া বিশ্ব: ট্রাম্প চলেছেন পূর্বসূরীদের পথেই

চীনের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ–সম্পৃক্ততা নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির সীমা ছাড়িয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সফর ছিল...
​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
নেপালসহ দেশে দেশে সরকার পতন ও এরপরের ‘খিচুড়ি’ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে সেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো না হয় ‘ডাল’ আর ‘চাল’-এর ভূমিকা নিয়েছে। আগুন হিসেবে কাজ করেছে জেন জি-র ক্ষোভ। কিন্তু খিচুড়ি রান্নার...
‘বিপ্লব, নাকি করপোরেট শক্তির খেল’–প্রশ্নটা আজ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির সামনে এক বিরাট ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার বছরের মধ্যে ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ–শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল–গণআন্দোলনের জেরে...
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচ খেলতে তাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবে জাতীয় দলের দায়িত্বের...
গত বছরের ২৭ মে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। আরও গ্রেপ্তার হয় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ, শ্যুটার আরাফাত ও শরীফ। ২৪ এর ৫ আগস্টের পর একের পর এক হত্যাকাণ্ডে...
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী...
সংবাদ সম্মেলনে মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা জানান, চক্রটি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃতের কাছ থেকে ১টি মাইক্রোবাস, ৭টি মোবাইল...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর