সঠিক লিপস্টিক, ব্লাশ বা ফাউন্ডেশন শেড বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। বাজারে হাজারো অপশন থাকলেও, সব শেড সবার ত্বকের সঙ্গে মানায় না। অনেকেই র্যান্ডমভাবে ট্রাই করে দেখে নেন। কিন্তু তারপরও মনে হয় রংটা ত্বকের সঙ্গে ঠিক মানাচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে আন্ডারটোন।
ত্বকের গভীরে থাকা সূক্ষ্ম রঙের আভা, যা নির্ধারণ করে কোন রং আপনাকে বেশি মানাবে। তাই শুধু প্রোডাক্টের রং পছন্দ করলেই হবে না। বুঝতে হবে আপনার ত্বকের আন্ডারটোনও। তাহলে কীভাবে জানবেন কোন শেড আপনার জন্য পারফেক্ট? চলুন, ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক।
আপনি যদি ব্লাশ, ফাউন্ডেশন বা লিপস্টিক কিনতে চান, কিন্তু বারবার মনে হয় রংটা ঠিক হচ্ছে না। তাহলে সম্ভবত আপনার আন্ডারটোন ঠিক বুঝে না নেওয়ার কারণে এমন হচ্ছে। যদি আপনার আন্ডারটোন বুঝতে পারেন, তবে আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন যে কোন শেড আপনার ত্বকের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো মানায়।
অর্থাৎ মেকআপের সঠিক শেড বাছাই করতে, প্রথমে আপনার ত্বকের আন্ডারটোন বুঝে নিতে হবে।
আন্ডারটোন কী?
আমাদের ত্বকের নিচে থাকা সূক্ষ্ম রঙের আভাকে বলা হয় আন্ডারটোন। এটা কখনো পরিবর্তন হয় না। এমনকি শীত-গ্রীষ্মে ত্বকের রঙ বদলেও নয়। আন্ডারটোন সাধারণত তিন ধরনের হয়। কুল, ওয়ার্ম এবং নিউট্রাল আন্ডারটোন।
কুল আন্ডারটোন: ত্বকের নিচে গোলাপি, নীলচে বা লালের আভা।
ওয়ার্ম আন্ডারটোন: ত্বকের নিচে হলুদ, পিচ বা সোনালি আভা।
নিউট্রাল আন্ডারটোন: কুল ও ওয়ার্মের সংমিশ্রণ।

আপনার ত্বকের আন্ডারটোন কীভাবে জানবেন
রক্তনালী পরীক্ষা করুন: আপনার কব্জির রক্তনালী দেখুন। যদি তা নীলচে বা বেগুনি দেখায়, তবে আপনার ত্বকের আন্ডারটোন কুল (ঠান্ডা) হতে পারে। যদি রক্তনালী সবুজ দেখায়, তাহলে আপনার আন্ডারটোন ওয়ার্ম (গরম) হতে পারে। আর যদি উভয় রঙের মিশ্রণ দেখতে পান। তাহলে আপনার আন্ডারটোন নিউট্রাল হতে পারে। অর্থাৎ গরম এবং ঠাণ্ডা আন্ডারটোনের সমন্বয়।
গহনা পরীক্ষা: সিলভার গহনা কুল আন্ডারটোনের ত্বকের জন্য বেশি মানায়। আর গোল্ড গহনা ওয়ার্ম আন্ডারটোনের ত্বকে ভালো লাগে। যদি উভয় গহনাই আপনাকে ভালো মানায়। তাহলে আপনি সম্ভবত নিউট্রাল আন্ডারটোনের অধিকারী।
সাদা বনাম অফ-হোয়াইট পোশাক: সাদা পোশাক কুল আন্ডারটোনের ত্বকে ভালো মানায়। কিন্তু অফ-হোয়াইট বা ক্রিম রঙের পোশাক ওয়ার্ম আন্ডারটোনের ত্বকের জন্য বেশি উপযুক্ত।
সূর্যের প্রতিক্রিয়া: যদি আপনি রোদে গেলে সহজেই পুড়ে যান। তবে আপনার আন্ডারটোন কুল হতে পারে। আর যদি আপনি রোদে দ্রুত ট্যান হন। তবে আপনার আন্ডারটোন ওয়ার্ম হতে পারে।
এই পরীক্ষা গুলো আপনাকে সঠিক আন্ডারটোন বুঝতে সাহায্য করবে। যাতে আপনি সঠিক মেকআপ শেড বেছে নিতে পারেন।
কীভাবে সঠিক শেড বেছে নেবেন?
কুল আন্ডারটোন: আপনার ত্বকে যদি ঠান্ডা আন্ডারটোন থাকে। তাহলে নীলচে রঙের লাল, গোলাপি পিংক, এবং ঠান্ডা টোনের ফাউন্ডেশন আপনার জন্য ভালো হবে। এই শেডগুলো আপনার ত্বকে সুন্দরভাবে মানাবে।
ওয়ার্ম আন্ডারটোন: যদি আপনার ত্বকের রঙে গরম আভা (যেমন, সোনালী বা হলুদ আভা) থাকে। তাহলে পিচ রঙের ব্লাশ, কোরাল লিপস্টিক এবং হলুদ টোনের ফাউন্ডেশন ভালো ফল দেয়। এই শেডগুলো আপনার ত্বকের গরম আভাকে উজ্জ্বল করে তুলবে।
নিউট্রাল আন্ডারটোন: যদি আপনার ত্বকে উষ্ণ এবং ঠাণ্ডা উভয় ধরনের আভা থাকে, তাহলে উভয় ধরনের শেডের মিশ্রণ আপনার জন্য সেরা। আপনি কুল এবং ওয়ার্ম শেডের মধ্যে মিশ্রণ বেছে নিলেও আপনার ত্বকে তা সুন্দর লাগবে।
এভাবে আপনার আন্ডারটোন অনুযায়ী শেড বেছে নিলেই, পাবেন সঠিক মেকআপ পাবেন।


চুলের যত্নে ডিম-দইয়ের প্যাক, ঠিক না ভুল করছেন
আলিয়া ভাটের মতো নো-মেকআপ লুক পাবেন যেভাবে
