ব্লেসিং মুজারাবানির বোলিং বাংলাদেশকে কীভাবে ভোগাতে পারে, সেটা নিয়ে ম্যাচের আগে অনেক কথা হয়েছে। এত আলোচনার হয়তো দরকার ছিল না। বাংলাদেশকে ভোগানোর জন্য দলটার নিজেদের ব্যাটিংই যথেষ্ট! সাম্প্রতিক টেস্ট ইতিহাস তো সেটাই বলে।
মুজারাবানি ৩টা উইকেট নিয়েছেন বটে। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত তাঁর শর্ট বলে পয়েন্টে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন, মেহেদি হাসান মিরাজ তো মুজারাবানির বাউন্সার সামলাতে গিয়ে লেজেগোবরেই করে ফেলেছেন, আর হাসান মাহমুদ হয়েছেন বোল্ড।
তবে প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনের ১১ ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশ যখন ১৯১ রানে অলআউট হয়ে গেল, তারপর বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে আর বিশ্লেষণের কিছু সম্ভবত থাকে না। ঘুরেফিরে তো সেই একই কথা, কীভাবে একের পর এক ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন!
দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় আর সাদমান ইসলামের আউটের ঢং মনে করিয়ে দিয়েছে ২০০৩-০৪ সালের দিকের বাংলাদেশের উইকেটগুলোর কথা, খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে আউট। ৩২ রানের মধ্যে দুই ওপেনার যখন বিদায় নিচ্ছেন, বলটা মাত্র ১০ ওভারই পুরোনো হয়েছে। এরপর ৪০ রান করা শান্ত আর ৫৬ রান করা মুমিনুল বাংলাদেশকে প্রথম সেশনটা পার করিয়েছেন।
কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে শান্ত আউট হলেন মুজারাবানির বাউন্সারে, হয়তো ওই ওভার বা এর এক ওভার পরই মুজারাবানিকে সরিয়ে দেওয়া হতো। এরপর? এক সময়ে শটের দ্যুতিতে ‘আহ, মুশফিক’ অনুভূতি ছড়ানো ব্যাটসম্যান সাম্প্রতিক সময়ের মতো আরেকবার ‘ওহ, মুশফিক’ অনুভূতি ছড়িয়ে আউট! রান নেওয়ার পথ আটকে গেলে বারেবারে সুইপ, স্লগ সুইপ, রিভার্স সুইপ ছাড়া যেন বাংলাদেশের ‘সেরা টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যানের’ হাতে আর শটই নেই – সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুভূতিই ছড়িয়ে দেওয়া মুশফিক আজ আউট হলেন অফ স্টাম্পের বাইরের লুজ বল লেগে টেনে মারতে গিয়ে। শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ৪ রান করে। ১০০ টেস্টের মাইলফলকের পেছনে ছোটা মুশফিকের ব্যাটে ৯৫তম টেস্টের অভিজ্ঞতার ছাপ পাওয়া গেল না।
এ দুজনের আউটের কারণে যাঁর টিকে থাকা আরও বেশি দরকার হয়ে পড়েছিল, সেই মুমিনুলের আউটটা বাংলাদেশের সমর্থকদের আরও মন খারাপ করানোর মতো। যেন আগে থেকে ঠিকই করে রেখেছিলেন স্লগ সুইপ খেলবেন, তা-ই খেলেছেন। কিন্তু বলটা স্লগ সুইপের ছিল না। মিডউইকেটে সোজা ক্যাচ।
লাঞ্চের পর ৩৮ রান আর ওভার দশেকের মধ্যে মুশফিক, মুমিনুল, শান্তদের বিদায়েই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ততক্ষণে বাঁকা। মেহেদি হাসান মিরাজের আউটটা মেরুদণ্ড ভেঙেই দিল! মুমিনুল আউট হওয়ার পাঁচ বল পরই মুজারাবানির বাউন্সারে গা বাঁচাতে গিয়ে যেভাবে আউট হলেন মিরাজ, দেখে মনে হলো মুজারাবানি নয়, জোয়েল গার্নার বোলিং করেছিলেন!
১৩৭ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ এরপর আর কী করবে! তাইজুল উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে যখন বিদায় নিলেন, তখনো বাংলাদেশ ১৫০ থেকে ৬ রান দূরে। এর কিছুক্ষণ পর চা বিরতি এসেছে বাংলাদেশের জন্য ক্ষণিকের স্বস্তি হয়ে!
দ্বিতীয় সেশনে ৭০ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ এরপর কিছু রান পেয়েছে জাকের আলী (২৮) আর হাসান মাহমুদের (১৯) কারণে। জাকের অবশ্য ১৪ রানে একবার জীবন পেয়েছিলেন। দুজনের ৪১ রানের জুটি ভাঙে মুজারাবানির বলে হাসানের স্টাম্প উপড়ে যাওয়ায়। বাংলাদেশের রান তখন ৮/১৮৭, দলকে ২০০ পার করিয়ে আরও কিছু রান এনে দেওয়ার দায়িত্ব তখন জাকেরের ওপর। কিন্তু দলের এমন কঠিন অবস্থায় এই ২৮ রানের ইনিংস খেলতেই কেন যেন ধৈর্যচ্যুতি হয়ে গেল জাকেরের, মাধেভেরের বলে অযথা এগিয়ে এসে মারতে গেলেন। শট তো হলোই না, ৩০ গজের ভেতরেই ক্যাচ!
৬১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জাকের আউট হলেন দলকে ১৯১ রানে রেখে, এর চার বল পর স্কোরবোর্ডে রানের ঘরে নড়নচড়ন হতে না দিয়েই নাহিদ বোল্ড, অলআউট বাংলাদেশ।
এমন দিনে ব্যাটিংয়ের আর কী বিশ্লেষণ করা যায়, কী-ইবা আর ইতিবাচক দিক বের করবেন! একটাই হতে পারে, দুই সেশনে কড়া রোদে জিম্বাবুয়েকে ফিল্ডিং করিয়ে বাংলাদেশ এখন ফিল্ডিংটা করছে শেষ বিকেলের আলতো রোদে।
বুদ্ধি বটে!



