প্রেম, রোমান্স বা ঘনিষ্ঠতার ছোঁয়া নেই, তবু জাপানে বাড়ছে ‘বন্ধুত্বের বিয়ে’র জনপ্রিয়তা। এই বিয়েতে বন্ধুত্ব আর পারস্পরিক মানিয়ে চলার ক্ষমতাকেই বড় করে দেখা হয়। কালার্স নামের একটি সংস্থা, যারা এই ধরনের বিয়ে আয়োজন করে। তারা জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে প্রায় ৫০০ জন মানুষ জাপানে বন্ধুত্বভিত্তিক বিয়েতে যুক্ত হয়েছেন।
প্রেম নয়, সামঞ্জস্যই মূল কথা
এই বিয়েতে একে অপরের প্রতি রোমান্টিক টান না থাকলেও দম্পতিরা আগেই বসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন। যেমন, খাবারের পছন্দ, সন্তানের লালন-পালন, খরচ ভাগাভাগি কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরণ। মূল উদ্দেশ্য, সম্পর্ক টিকবে কি না, সেটি আগে যাচাই করে নেওয়া।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক আসেক্সুয়াল কিংবা সমলিঙ্গপ্রেমী মানুষ এই ধরনের বিয়ে বেছে নিচ্ছেন। তাদের কাছে বিয়ে মানে বন্ধুত্বের বন্ধন, প্রেমের দাবি নয়।
কেন এই প্রবণতা বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের চাপ মেটাতে মানুষ এমন বিয়ে করছেন যেখানে মানসিক মিলই মুখ্য। সেই সাথে জীবনে একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী খোঁজার আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রাখছে। আবার অনেকেই প্রচলিত বিয়ের ধারণা নিয়ে হতাশ। আর এতে প্রত্যাশা কম থাকায় সম্পর্ক সহজ হয়, হতাশাও কমে। বিবাহিতদের জন্য কর সুবিধাও একটি বড় কারণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাপানে বন্ধুত্বের বিয়ে মানে এক ধরনের ‘রুমমেট খোঁজা’। যেখানে দু’জন মানুষ একসঙ্গে থেকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে পারেন। সমীকরণটা জাপানের হলেও, একই পথ ধরছে আমাদের দেশের প্রাপ্তবয়স্করাও। যেখানে বন্ধুত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে, কিন্ত প্রেম নেই।


কতটা আপন আপনার সামাজিক মাধ্যমের বন্ধুরা?
সব কিছুতে হ্যাঁ নয়, না বলাও শিখতে হবে
