তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) গণঅভ্যুত্থানের মুখে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। আর সেই আন্দোলনের আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন ডিজে সুদান গুরুং। তাঁর বয়স মাত্র ৩৬। একসময় তিনি ছিলেন ডিজে এবং ওএমজি নামের একটি নাইটক্লাবের কর্ণধার। তবে ২০১৫ সালে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানলে বদলে যায় তাঁর জীবনের গতিপথ। সেই ভূমিকম্পে সন্তান হারানোর পর থেকেই সমাজসেবায় ঝুঁকে পড়েন তিনি।
নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য অন্নপূর্ণা এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ‘হামি নেপাল’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে সুদান। প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার প্রসারই হচ্ছে সেই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। ত্রাণ থেকে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা—এমন নানা ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দেশটির জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি ও তাঁর সংগঠন।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের সুদানের আবির্ভাব বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। ২০২৩ সালে বিপি কৈরালা ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেসের কর্মকর্তাদের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। সেই দুর্নীতিকাণ্ডের প্রতিবাদে ঘোপা ক্যাম্প আন্দোলনেও সম্মুখ সারিতে ছিলেন সুদান। সেখান থেকেই মূলত তাঁর রাজনৈতিক প্রতিরোধের যাত্রার শুরু।

এবার ওলি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সেই ডিজে সুদান এখন ছাত্র-যুবকদের কণ্ঠস্বর। তাঁর প্রতিবাদী গানের তালে মেতে উঠছে তরুণ প্রজন্ম। টিকটকের মতো অ্যাপে ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর আন্দোলনের স্লোগান, ভিডিও আর সংগঠনের বার্তা। যে প্ল্যাটফর্মগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিল, সেগুলোর মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
ওলি সরকারের বিরুদ্ধে শুধু ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপসহ ২৬টি সামাজিকমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, আর্থিক বৈষম্য ও স্বজনপোষণের অভিযোগও উঠেছে। সবশেষ গতকাল নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, দেশ ছেড়ে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী দুবাইয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।


ইলেকশনের ট্রেনে উঠে গেল বাংলাদেশ: ফারুকী
