ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। কিডনি জটিলতায় দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর গতকাল শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আজ রোববার দুপুরে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ নেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ভক্ত, অনুরাগী ও শিল্পীসমাজের ভালোবাসায় ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তিনি। এ সময় উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা দেশে না থাকায় ভিডিওকলে যুক্ত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। চোখ ভিজে ওঠে তাঁর, প্রিয় সহকর্মীকে হারানোর বেদনা জানিয়ে পরিবারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে কুষ্টিয়ায় নেওয়া হচ্ছে ফরিদা পারভীনের মরদেহ। লালন সাঁইয়ের টানে, বাবা-মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হবেন তিনি। জীবদ্দশাতেই নিজের চিরনিদ্রার জায়গা নির্ধারণ (অসিয়ত) করেছিলেন ফরিদা পারভীন।
দেশের গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শোকপ্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম ফরিদা পারভীনের। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের সূচনা হয়। টানা ৫৫ বছরের সংগীতযাত্রায় তিনি একে একে গেয়ে গেছেন অসংখ্য লালনগীতি। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ কিংবা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-এর মতো গান তাঁর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পায়। শ্রোতারা স্নেহভরে তাঁকে ডেকেছেন—‘লালনকন্যা’।


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহকর্মী-ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা লালনকন্যাকে
