চিকিৎসা বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন মার্কিন ম্যারি ই. ব্রানকো, ফ্রেড র্যামসডেল ও জাপানি সিমন সাকাগুচি। মানবদেহের পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পান তাঁরা।
বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট।
পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স হলো একটি প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া, যা মানবদেহের ভেতরে থাকা নিজস্ব অ্যান্টিজেন (শরীরের উপাদান) এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিজেনের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল হতে বাধা দেয়। নোবেল কমিটি বলছে, এই তিনজন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রহরী রেগুলেটরি টি কোষকে চিহ্নিত করেছেন। ফলে গবেষণার একটি নতুন ক্ষেত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
এই আবিষ্কার সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশেও সহায়তা করেছে, যা বর্তমানে ক্লিনিকাল ট্রায়ালে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় রোগের চিকিৎসা বা নিরাময় সম্ভব হবে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে আরও কার্যকর ক্যানসার চিকিৎসা প্রদান করা যাবে এবং স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের পরে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা যাবে।
চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হলো এ বছরের নোবেল পুরস্কারের মৌসুম। প্রতিবছরের মতো এবারও মোট ছয়টি বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
এরপর মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যায়, বুধবার রসায়নে, বৃহস্পতিবার সাহিত্যে, শুক্রবার শান্তিতে এবং সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ১০ ডিসেম্বরের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
ডিনামাইট উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থ থেকে প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
গত বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রুভকুন। মাইক্রোআরএনএর কার্যক্রম আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পান তাঁরা। পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল জিন নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া আবিষ্কারেও এ দুজন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
মাইক্রোআরএনএ হচ্ছে এক ধরনের ছোট রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ)। এটি শরীরে জিনের অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে বহুকোষী জীবের শরীরে জিনের কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সহজ হবে। আর তাতে করে শরীরের ভিতরে থাকা বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম নিয়েও জানা যাবে বিস্তারিত।



