প্যারিসের মারেই অঞ্চলে নিজের প্রথম স্টোর চালু করেছে ফরাসি উদ্ভাবনী মেকআপ ব্র্যান্ড লে রুজ ফ্রঁসেজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের মেকআপ তৈরিতে ব্যাবহার হয়েছে উদ্ভিদভিত্তিক রঙ। অর্গানিক এই মেকআপ ব্র্যান্টির ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় শতাধিক স্টোরে তাদের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এবার নতুনভাবে ১৫ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে তারা ‘টুডিগো’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত লে রুজ ফ্রঁসেজ সৌন্দর্যচর্চায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। ব্র্যান্ডটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এলোদি কারপঁতিয়ে একজন বায়োটেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ার। যিনি আগে ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আছেন স্বামী সালেম ঘেজাইলি, যিনি ব্যবসাবিষয়ক প্রকৌশলী।

তাদের নতুন স্টোরটি খোলা হয়েছে প্যারিসের ঐতিহাসিক রু দে তুরেনের প্লাস দে ভজের কাছেই। দোকানটি শুধু পণ্য বিক্রির জন্য নয়, যেখানে দর্শনার্থীরা উদ্ভিদের রঙ, উপকরণ ও তৈরির ইতিহাসও জানতে পারবে।
ব্র্যান্ডটির দাবি, তারা তিন বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে উদ্ভিদ থেকে রঙ সংগ্রহ ও প্রসাধনীতে ব্যবহার নিয়ে। তারা একটি পেটেন্টকৃত প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো মেকআপ কোম্পানি এখনও করেনি।
লে রুজ ফ্রঁসেজের প্রতিটি পণ্য অর্গানিক সার্টিফায়েড। এতে ব্যবহৃত হয় প্রাকৃতিক উদ্ভিদ। যার মধ্যে রয়েছে ম্যাডার, রুকু, সরগাম, ইন্ডিগো, দামাস্ক গোলাপ ও হিবিসকাস। এই উদ্ভিদগুলো নিজ নিজ দেশে সংগ্রহ করা হয়।
বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মেকআপ ব্র্যান্ড যেখানে পেট্রোকেমিক্যাল রঙ ব্যবহার করে, সেখানে লে রুজ ফ্রঁসেজ তৈরি করেছে অর্গানিক পণ্য। তাদের নেইলপলিশে রয়েছে ৮১ শতাংশ উদ্ভিদজাত উপাদান। রঙের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রেড অ্যালগি থেকে প্রাপ্ত অ্যান্থোসায়ানিন। যা প্রাকৃতিকভাবে গাঢ় রঙ দেয়।
লে রুজ ফ্রঁসেজের সব প্যাকেজিং ইকোসার্ট মানদণ্ডে তৈরি এবং সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য। ব্র্যান্ডটি পিইটিএ সার্টিফায়েড ভেগান। অর্থাৎ কোনো পণ্যে প্রাণিজ উপাদান নেই। প্রাণীর ওপর কোনো পরীক্ষা চালানো হয় না।
তারা বী ওয়্যাক্সের পরিবর্তে রাইস ওয়্যাক্স ব্যবহার করে। আর প্রাণিজ চামড়ার বদলে আপেলের খোসা দিয়ে তৈরি করে কভার। এমনকি প্রাণী থেকে প্রাপ্ত কোচিনিল রঙ, যা সাধারণত লাল লিপস্টিক ও ব্লাশে ব্যবহৃত হয়। সেটিও তারা বাদ দিয়েছে।
এর আগে কেবল পপ-আপ স্টোরের মাধ্যমে উপস্থিতি ছিল লে রুজ ফ্রঁসেজের। এবার নিজেদের প্রথম স্থায়ী দোকান দিয়ে শুরু হলো নতুন অধ্যায়। বর্তমানে ব্র্যান্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের নিম্যান মার্কাস ও ক্রেডো বিউটি সহ ১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক স্টোরে বিক্রি হচ্ছে। খুব শিগগিরই ফ্রান্সের নোসিবে চেইন স্টোরের ৫০টি শাখায় পাওয়া যাবে তাদের পণ্য।
বর্তমানে তারা নতুন করে ১৫ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। যা ইতোমধ্যেই ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরোর বেশি পেয়েছে টুডিগো প্ল্যাটফর্মে। এই অর্থে তারা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে মনোযোগ দেবে। ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ১ কোটি ইউরো আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করা। সেই সাথে উদ্ভিদভিত্তিক মেকআপে বিশ্বসেরা ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নেওয়া।


ম্যাট লিপস্টিকে ঠোঁট ফাটলে কী করবেন?
আইলাইনার টেকসই রাখার ৭ উপায়
