ম্যাট লিপস্টিক বা যেকোনো ম্যাট ফিনিশের লিপস্টিক ব্যবহার অনেকের কাছে ফ্যাশন ও স্টাইলের অংশ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ম্যাট লিপস্টিক পরলেই ঠোঁট ফাটে বা শুষ্ক হয়ে যায়। এই সমস্যা শুধু ঠোঁটকে অসুন্দর দেখায় না। বরং লিপস্টিকের রঙের কার্যকারিতাকেও কমিয়ে দেয়। তাই ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও কোমলতা বজায় রাখতে হবে।
লিপ স্ক্রাব: মৃত কোষ সরানোর প্রথম ধাপ
ঠোঁটের উপরও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃত কোষ জমে থাকে। নিয়মিত লিপস্টিক ব্যবহারের কারণে এটি আরও শক্ত হয়ে যায়। তাই ঠোঁটে ব্যবহার করতে হবে লিপ স্ক্রাব। মধু ও চিনি মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন এই স্ক্রাব। গোসলের আগে নরম ব্রাশ দিয়ে ঠোঁটে স্ক্রাব করে নিন। এতে মৃত কোষ উঠে যাবে। আর ঠোঁট হবে নরম। মধু-চিনির পরিবর্তে কফি-পেট্রোলিয়াম তেল বা নারকেল তেলের স্ক্রাবও ব্যবহার করা যায়। সপ্তাহে দুই-তিন বার লিপ স্ক্রাব করলে ঠোঁটের স্বাভাবিক কোমলতা বজায় থাকে।
লিপ বাম: ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখার চাবিকাঠি
ঠোঁটের কোমলতা ও আর্দ্রতা ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায় হলো লিপ বাম ব্যবহার। বাজারে প্রচলিত লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। তবে চাইলে বাড়িতেও তৈরি করা যায়। নারকেল তেলের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে, ২ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করে ছোট কৌটিতে রেখে ফ্রিজে রাখুন। এভাবে তৈরি লিপ বাম দীর্ঘস্থায়ী এবং ঠোঁটকে কোমল রাখে।
রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে লিপ বাম বা ঘি লাগানোও খুব কার্যকর। ঘি ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ফাটা ঠোঁটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক উপায়ে ঠোঁটকে নরম ও সজীব রাখে।
লিপস্টিক পরার আগে করণীয়
ঠোঁটের আর্দ্রতা ও কোমলতা নিশ্চিত করার পরেই লিপস্টিক ব্যবহার করুন। দু’বার লিপ বাম লাগানো এবং সপ্তাহে দুই-তিন দিন লিপ স্ক্রাব করুন। লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী করতে লিপ প্রাইমার ব্যবহার করুন। এরপর লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁটের প্রান্ত আঁকুন। এই ধাপগুলো লিপস্টিককে ঠোঁটে সুন্দরভাবে বসাতে সাহায্য করে।
লিপস্টিক পরার সময় তুলি ব্যবহার করলে রঙ সুন্দরভাবে ব্লেন্ড হয়। প্রয়োজনে লিপস্টিকের শেষে হালকা লিপ গ্লস লাগাতে পারেন। স্টাইলের জন্য একসঙ্গে দুটি ভিন্ন রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করলেও চোখে পড়ার মতো প্রভাব তৈরি করা যায়।
সর্বশেষে বলা যায়, ম্যাট লিপস্টিকের স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জ ঠিকঠাকভাবে সামলাতে গেলে শুধু স্টাইল নয়, ঠোঁটের যত্ন অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত লিপ স্ক্রাব, লিপ বাম, ঘি ব্যবহার এবং সচেতন লিপস্টিক প্রয়োগের মাধ্যমে ঠোঁটকে ফাটা ও শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এতে লিপস্টিকও দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরভাবে থাকবে এবং ঠোঁট দেখাবে স্বাস্থ্যসম্মত ও কোমল।


তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
ঠোঁটের কালচে দাগ যেভাবে দূর করবেন
