ব্যান্ড ‘এলআরবি’ থেকে অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন রক আইকন আইয়ুব বাচ্চু। ভক্তরা তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন ‘এবি’। তবে অসংখ্য গানের ভেতর তাঁর ‘চলো বদলে যাই’ গানটি সবচেয়ে বেশি লুফে নিয়েছিল শ্রোতারা। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত এলআরবির ‘সুখ’ অ্যালবামে ছিল এই অমর সৃষ্টি। আজ ব্যান্ড এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে থাকল গানটি সৃষ্টির পেছনের গল্প।
‘আমার আমি’ শিরোনামের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে ‘চলো বদলে যাই’ (সেই তুমি) গানটি তৈরির প্রেক্ষাপট জানিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু নিজেই। স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনার আবদারে গানটি লিখেছিলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘বিয়ের এক থেকে দেড় বছরের মাথায় আমার মনে হয়েছিল আমাদের জীবনে আরও একটা গান খুব ডিমান্ড করে। তারপরই লিখেছিলাম চলো বদলে যাই গানটি। এই গানটা সারা পৃথিবীর বাংলাভাষী মানুষ জানে, পছন্দ করে। এই গানটার কৃতিত্বের অধিকারিণী আমার স্ত্রী চন্দনা।’

গানটি তৈরির সেই দিনটির স্মৃতিচারণ করে বাচ্চু বলেন, ‘‘একদিন সকালে বাসায় বসে আমি চা খাচ্ছি। সে (ফেরদৌস আক্তার চন্দনা) এসে বলল—‘বসে আছ, একটা গান লিখতে পার না? একটা সুর করো, গান আমার জন্য করো।’ চন্দনাকে আমি বললাম, ‘খারাপ আইডিয়া দাওনি!’’’
ব্যক্তিজীবনের বদলে যাওয়ার প্রসঙ্গ অবতারনা করে এই কিংবদন্তি বলেন, ‘আমার তখন মনে হলো আরে আমরা তো সিরিয়াস প্রেম করতাম। দেড় বছরে আমাদের সেই প্রেম চলে গেল! এটা কেন হলো? আমরা এমন প্রেম করতাম, রিকশা নিয়ে মালিবাগ থেকে বের হয়ে পুরো শহর ঘুরে সোবহানবাগ হয়ে অডিও-ভিডিও ক্যাসেট নিয়ে ফিরতাম।’
আরও বলেন, ‘তখন রিকশায় চানাচুর খাওয়া, খুনসুটি করা—এই দিনগুলো কই চলে গেল। সেই কথাগুলো স্মরণ করেই লিখেছিলাম চলো বদলে যাই গানের কথাগুলো।’

আইয়ুব বাচ্চুর সিগনেচার এই গানের কথাগুলো হলো—‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে/ সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম/ কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি/ কীভাবে এত বদলে গেছি এই আমি/ বুকেরই সব কষ্ট দু’হাতে সরিয়ে/ চলো বদলে যাই।’
প্রসঙ্গত, চলো বদলে যাই গানটির জনপ্রিয়তা আইয়ুব বাচ্চু তাঁর জীবদ্দশায় দেখে গেছেন। এই গান ছাড়া তাঁর কনসার্টই যেন ভক্তদের কাছে অসম্পূর্ণ মনে হতো। দেশ-বিদেশের এমন কোনো কনসার্ট নেই, যেখানে তাঁকে এই গান গাইতে হয়নি।


কিংবদন্তি গিটারিস্ট ফ্রেহলি আর নেই
নব্বই দশকের নস্টালজিয়ায় ফিরছে ‘বার্বি গার্ল’খ্যাত অ্যাকোয়া
