বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন তো মানছেনই না, উল্টো শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি করেছেন এমপিও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, ৩ দফা আদায় না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে। রোববার শহীদ মিনার থেকে ভুখা মিছিলও বের করেন শিক্ষকরা। পরে অনশনের বদলে সোমবার শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
আট দিন ধরে আন্দোলন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। রোববার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তারা।
৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনও প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী একজন শিক্ষক বলেন, ‘যতক্ষণ আমাদের দাবি পূরণ না হবে, এই যে স্কুলে তালা লেগেছে তা চলবেই। ১ হাজার টাকায় একটা কুঁড়েঘরও ভাড়া পাওয়া যায় না। এ কারণে আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমাদের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া কার্যকর করতে হবে। আমাদের সঙ্গে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।’
শিক্ষকদের আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, শিক্ষকদের দাবি মেনে না নিলে ফ্যাসিস্টের মতো পরিণতি হবে অন্তর্বর্তী সরকারের।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা যাদের দেখি, তাদের সবাই শিক্ষক। শিক্ষক হয়েও আপনারা আমাদের এই শিক্ষকদের বঞ্চনা অনুভব করতে পারছেন না। আপনারা যদি এটা করতে না পারেন, আপনাদের এখানে থাকার দরকার নাই। আমাদের শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি যদি মেনে না নেন, তাহলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ, খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের যে পরিণতি হয়েছে তার চেয়েও খারাপ পরিণতি আপনাদের হবে।’
পরে সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার অনশনের পরিবর্তে শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষণা দেন তারা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘প্রয়োজনে বাজেট পরিবর্তন হবে শিক্ষকদের জন্য। প্রয়োজনে সচিবকে বিদায় করতে হবে। আগামীকাল জাতীয় শহীদ মিনারে লাখ লাখ শিক্ষককে নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
শিক্ষকরা বলছেন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতার দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না তারা। চালিয়ে যাবেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।



