ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল। এই রায় ট্রাইব্যুনাল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে তিন বিচাররপতির ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করবেন। শেখ হাসিনাসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে এদিন রায় ঘোষণা করা হবে। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চায় রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম জানান, জুলাই আন্দোলনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশসহ আসামিদের বিরুদ্ধের সুনির্দিষ্ট পাঁচটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন তাঁরা। এ জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। তবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তার বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।
প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম আরও জানান, নির্বিচারে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেননি বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করলেও পলাতক আসামি হিসেবে তাঁর বক্তব্যের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। আসামি নারী বিবেচনায় রায়ে কোনো অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান প্রসিকিউটর।
কাল রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল–১ এর ভেতর থেকে বিটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ সময় বিচারকদের সরাসরির দেখা না গেলেও তাদের ঘোষণা করা রায়ের অডিও শুনতে পাবেন দর্শকেরা। দেখতে পাবেন প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য আইনজীবীদের।
এদিকে মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে সুপ্রিমকোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায়। সকালে পুলিশের পাশাপাশি সেনসদ্যদের দেখা গেছে টহল দিতে।
এরআগে গত ২৩ অক্টোবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। সবশেষ ১৩ নভেম্বর আদালত রায়ের জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ওইদিনই ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।
আন্দোলন ঘিরে হত্যাকাণ্ডসহ মোট পাঁচ অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৮১ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
মনাবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়–এই পাঁচটি অভিযোগে বিচার হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো– গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে চালানো হত্যাকাণ্ড, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো।
শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত কদিন ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নানা পক্ষে নাশকতা মোকাবিলায় কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।



