মাসখানেক আগে কুমার শানুর সঙ্গে দাম্পত্যজীবন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্য। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবার সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুমার শানু। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মানহানি মামলা দায়ের করে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাইলেন গায়ক।
রীতা দাবি করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে খেতে দিতেন না গায়ক। এমনকি সন্তানের খাবার জন্য টাকা চাইতে গিয়েও নাকি অপমানিত হতে হয়েছে তাঁকে!
ব্যক্তিজীবন নিয়ে কুমার শানু বরাবরই আলোচনায় থাকেন! একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন গায়ক। মাসখানেক আগে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তথা অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন গায়কের সঙ্গে তাঁর ‘বিবাহবহির্ভূত’ সম্পর্ক নিয়ে।
এর ক’দিন পরই গায়কের প্রাক্তন স্ত্রী রীতা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘জান (ছেলে) যখন গর্ভে ছিল, তখন আমাকে খাবার খেতে দেওয়া হত না। শানু বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ে হেঁশেলে তালা ঝুলিয়ে যেত। একমুঠো চাল কিনে তখন আমি আমার বউদির বাড়িতে গিয়ে খিচুড়ি রেঁধে খেতাম। এমনকি আমার বাচ্চাদের জন্য দুধ পর্যন্ত আনতে দিত না। আমাকে দিনের খরচ চালানোর জন্য হাতে মাত্র ১০০ টাকা গুঁজে দিত। ডাক্তারকেও বলেছিল, আমাদের খরচ দিতে পারবে না ও। তাই ওকে ‘মানুষ’ বলাটা ভুল হবে। বাচ্চার খাবার অর্ডার করলে, দোকানদার আমাকে সাফ জানিয়ে দিত—দিতে পারব না, সাহেবের মানা রয়েছে।’’
এখানেই শেষ নয়! গায়কের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ‘কুমার শানু ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। তাই আমাকে ঘর থেকে বের হতে দিত না। আমার গর্ভাবস্থায় আমাকে আদালতে পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছে। ওই সময়ে ও এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কেও জড়িয়েছিল। যেটা এখন সকলেই জানেন। আমার বয়স তখন অনেকটাই কম। আমি তো ভেবেছিলাম, আমার জীবনটাই বুঝি শেষ হয়ে গেল। আমার পরিবারও অবাক হয়ে গিয়েছিল এসব দেখেশুনে। গতবছর এক বড় পার্টিতে শানু বলে যে, আমিই নাকি ওর সাফল্যের নেপথ্যে। কিন্তু আমি তো কারণটাই জানি না! এই কুমার শানুই আমাকে আদালতে নিয়ে আমাকে খোরাক বানিয়েছিল। হেসেছিল।’
এসব অভিযোগের পরই সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন কুমার শানু। এই ঘটনায় গত অক্টোবরে আইনজীবী সানা রইস খানের মাধ্যমে প্রাক্তন স্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠান কুমার শানু। এবার বোম্বে হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেন গায়ক।
প্রাক্তন স্ত্রীকে পাঠানো সেই নোটিশে বলা হয়, ‘বিগত ৪০ বছর ধরে কুমার শানু নিজের সুরেলা কণ্ঠের জোরে লক্ষ লক্ষ শ্রোতার মন জয় করে আসছেন। যার জন্যে অগণিত ভক্ত তাঁকে যেমন ভালোবাসে, তেমন শ্রদ্ধাও করে। কিছু মিথ্যা অপবাদ কিছুক্ষণের জন্য সকলকে বিভ্রান্ত করলেও ওঁর লিগ্যাসি কোনোদিন মুছে ফেলতে পারবে না। আইনের মাধ্যমেই আমরা এর মোকাবিলা করব।’


বাংলাদেশি পলিটিক্যাল থ্রিলার ‘মাস্টার’ যাচ্ছে রটারড্যামে
