বাংলাদেশের মর্যাদা ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে খেলতে চায় না বাংলাদেশ, এমন মন্তব্য করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
বিতর্কিতভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার জেরে গত কদিনে উত্তাল বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিশ্ব ক্রিকেটেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশ এর জেরে জানিয়ে দিয়েছে, যেখানে আইপিএলে যাওয়া একজন ক্রিকেটারকেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না ভারত, সেখানে আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতের মাটিতে খেলতে চায় না।
এ নিয়ে আইসিসি এরই মধ্যে বৈঠকে বসেছে, বিসিবির পাঠানো মেইলের একটি জবাব বিসিবিকে পাঠিয়েছে বলেও আজ সকালে জানিয়েছে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশকে বলেছে ‘ভারতেই খেলতে হবে, নতুবা পয়েন্ট হারাতে হবে।’ যদিও আজ দুপুরে বিসিবি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এমন প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। আইসিসির কাছ থেকে মেইলের জবাব এসেছে স্বীকার করে বিসিবি বলেছে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে জানিয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে আজ সচিবালয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেছি। বাংলাদেশ কষ্ট করে বাছাইপর্বে পেরিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমরা ক্রীড়া পাগল জাতি, আমরা ক্রিকেট ভক্ত জাতি, আমরা অবশ্যই খেলতে চাই কিন্তু এটা…আমাদের জাতির অবমাননার বিনিময়ে, আমাদের ক্রিকেটার এবং আমাদের দর্শক, আমাদের সাংবাদিক... তাদের নিরাপত্তার বিনিময়ে, দেশের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে চাই না।’
বিসিবির পাঠানো মেইলের জবাবে আইসিসির ফিরতি যে মেইল আজ বিসিবি পেয়েছে, তাতে কী লেখা আছে? এ ব্যাপারেও কথা বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘আইসিসির চিঠিটা আমরা পেয়েছি। সেটা পড়ে আমাদের মনে হয়েছে ভারতে যে প্রচণ্ড একটা নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হুয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য, সেটা তাঁরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় নাই। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা নিরাপত্তা ইস্যু শুধু না, এটা অবমাননার ইস্যু। যা-ই হোক, আমরা নিরাপত্তা ইস্যুটাকেই মুখ্য করে দেখছি। যেখানে ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড নিজেরাই বলছে কলকাতার টিমকে যে এই খেলোয়াড়কে (মোস্তাফিজ) নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে না, একে বাদ দাও... এটাই তো একটা মৌন স্বীকৃতি যে ভারতে নিরাপদে খেলার মতো পরিস্থিতি নাই। আমরা ভারতে যে বড় ইস্যু আছে - সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি, সেটা নিয়ে কিছু বলতে চাইছি না। কিন্তু আমাদের ক্রিকেটারদের যে নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের মর্যাদা, এটার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।’
ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কাতেই নিজেদের ম্যাচগুলো খেলতে চায় বাংলাদেশ - এটা আরেকবার জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, এবং এটা আমরা আরেকটা যে আয়োজক দেশ আছে শ্রীলঙ্কা, সেখানে খেলতে চাই। এই পজিশনে আমরা অনড় আছি। আমরা কেন এই পজিশনে অনড় আছি আমরা আশা করি সেটা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হব।’
কিন্তু আইসিসি যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের আহ্বান অগ্রাহ্য করে এবং বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়? সে ক্ষেত্রে বিসিবির অবস্থান কী হবে, এ প্রশ্নে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, 'আমাদের প্রথম স্ট্যান্ড হচ্ছে, আইসিসিকে বোঝানো। আমাদের যথেষ্ট শক্ত যুক্তি আছে, সেই যথেষ্ট শক্ত যুক্তি দিয়ে আমরা আইসিসিকে বোঝাব। আমাদের স্ট্যান্ডের মূলনীতি হচ্ছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সম্মান আর বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আমরা আপস করবো না। কিন্তু আমরা অবশ্যই ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এরপর পরবর্তী পরিস্থিতি যা হবে, সেটা নিয়ে আবার আমরা বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এখন পর্যন্ত আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা হলো, যে আমরা আইসিসিকে বোঝাব যে আমাদের ভারতে খেলার মতো পরিবেশ নাই।’
আজ রাতের মধ্যেই আইসিসিকে পাল্টা জবাব দেওয়া চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আসিফ নজরুল।



