পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। সেই আগ্রহকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে তাঁর বায়োপিক ‘মাইকেল’। মুক্তির আগেই আলোচনায় থাকা এই সিনেমা মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি আয় করে প্রায় ৯৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়ায় ২১৭ মিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে এটি এখন সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডধারী।
এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’ প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার উদ্বোধনী আয় করে এই তালিকার শীর্ষে ছিল। নতুন এই সিনেমা সহজেই সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বতারকা হয়ে ওঠার গল্প। ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’-এর সঙ্গে তাঁর যাত্রা, বাবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ, একক শিল্পী হিসেবে উত্থান এবং ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ট্যুরসবই এতে স্থান পেয়েছে। তবে বিতর্কিত অধ্যায়গুলো সচেতনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মাইকেল ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবার কঠোর শাসনের মধ্যেই গড়ে ওঠে তাঁর শিল্পীসত্তা। ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’-এর হয়ে গান গাইতে গাইতেই তিনি হয়ে ওঠেন দলের প্রাণ।
পরবর্তীতে একক শিল্পী হিসেবে তাঁর বিস্ফোরক উত্থান ঘটে। ‘থ্রিলার’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি শুধু সংগীতেই নয়, সংস্কৃতিতেও এক নতুন যুগের সূচনা করেন। ‘বিলি জিন’ ও ‘বিট ইট’-এর মতো গান এবং তাঁর বিখ্যাত ‘মুনওয়াক’ নৃত্য তাঁকে পরিণত করে বিশ্বব্যাপী এক কিংবদন্তিতে।
তবে খ্যাতির চূড়ায় উঠলেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্ক, অভিযোগ ও সংবাদমাধ্যমের চাপ তাঁকে ঘিরে রাখে। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন এক জটিল ও বহুমাত্রিক চরিত্র।
ছবিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাতিজা জাফার জ্যাকসন, যা তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র। ছোটবেলার চরিত্রে রয়েছেন জুলিয়ানো ক্রু ভালাদি। এছাড়া বাবা জো জ্যাকসন, মা ক্যাথরিন জ্যাকসনসহ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা প্রযোজনা করেছে লায়ন্সগেট, ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবং মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট। বড় বাজেট, শক্তিশালী বিপণন এবং বিশ্বজুড়ে বিপুল ভক্তসমর্থনের কারণে ছবিটির বক্স অফিস সাফল্য ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত, তবে প্রথম সপ্তাহেই তা প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।


বাড়তি পারিশ্রমিক দাবি করে বন্ধ রাখা হয় ‘প্রিন্স’র শুটিং, মুখ খুললেন প্রযোজক নেতা
