নানা বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আবারো দায়মুক্তি দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ আসতে যাচ্ছে। সরকারের উচ্চমহলে বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এবার আগের মতো ঢালাও সুযোগ না দিয়ে, আবাসন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কর এবং এর সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে এই সুযোগ বহাল রাখা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সুবিধা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এবং সৎ করদাতাদের মধ্যে তীব্র বৈষম্য তৈরি করে। অন্যদিকে, আবাসন ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এই সুযোগ না দিলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের আপত্তি: 'এটি বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতির সহায়ক'
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা অপ্রদর্শিত অর্থকে কোনোভাবেই মূল ধারায় আনার এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছেন না। তাদের মতে, নামমাত্র কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলে সৎ করদাতারা নিয়মিত কর দিতে নিরুৎসাহিত হবেন।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এর সমাধান জরুরি। কেউ একটা অংশ সরকারকে দিয়েছেন বলে সাদা হয়ে যাবে, তা হতে পারে না।’
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র ১০ শতাংশ কর এবং পূর্ণ দায়মুক্তি দিয়ে আবাসন খাতে ঢালাওভাবে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল। তবে সেই সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত এই দায়মুক্তির বিধানটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। বর্তমান সরকার আবারও সেই বিতর্কিত বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি: 'সুযোগ না দিলে টাকা বিদেশে পাচার হবে'
তবে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সহ আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা সরকারের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, মন্দাক্রান্ত আবাসন খাতকে টেনে তুলতে এই বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, ‘আপনি যদি বিনিয়োগের সুযোগ না দেন তাহলে এই অপ্রদর্শিত টাকা কোথায় যাবে। অতীতে বিভিন্ন দেশে বেগম পাড়া তৈরি হয়েছে, তাহলে ভবিষ্যতেও হবে।’
অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলে?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় রেকর্ড ১১ হাজার ৮৩৯ জন ব্যক্তি প্রায় ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈধ করেন। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। তবে এর পরের অর্থবছরেই সুযোগ কিছুটা সীমিত করা হলে কালো টাকা সাদা করার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী বাজেটে ৩০ শতাংশের মতো উচ্চ করহার ও জরিমানার বিধান রেখে সুযোগ দেওয়া হলে তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।


বিশ্ব তাকে ভালো না বেসে পারে না! নিজের গুণগান ভরা মিউজিক ভিডিও পোস্ট করলেন ট্রাম্প
