দেশে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় চরম বৈষম্য ও তীব্র করচাপে রয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বড় ধরনের এই শুল্ক ও কর বৈষম্যের কারণে বিনিয়োগকারীরা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষকরা এই তথ্য জানান। আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশ এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) সহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্যের করচাপ কমাতে সরকারের কাছে ৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
ব্রিফিংয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যকার রাজস্ব বৈষম্যের বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
বিশ্বে সবুজ রাজস্ব নীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে উল্লেখ করে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ইউরোপের দেশগুলো দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির শুল্ক ও করকাঠামোর ওপর থাকা সব ধরনের ভর্তুকি তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে সবুজ কর ও সবুজ বাজেট কাঠামো নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিজেল, এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির কারণে দেশ বর্তমানে বহুমুখী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৬৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের গতি এখনও বেশ ধীর।
সিপিডির বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ খাতের মোট বরাদ্দের ৯৫ শতাংশই চলে যায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়নে। শুধু বরাদ্দের ক্ষেত্রেই নয়, কর কাঠামোতেও রয়েছে বিশাল বৈষম্য।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্যানেল ও ব্যাটারি আমদানিতে মোট করের বোঝা ২৮ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত। পক্ষান্তরে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এই করের হার মাত্র ৯ থেকে ২৮ শতাংশ।
সিপিডির গবেষকরা মনে করেন, বিশেষ আইনের সুবিধা বন্ধ করে যদি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চুক্তি করা হয়, তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ যেমন কমবে, তেমনি ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন এবং দেশীয় টেকসই জ্বালানি সুরক্ষায় অনতিবিলম্বে নবায়নযোগ্য খাতকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।


বাজেটে আবাসন খাতে ফের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ!
