ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে তেমন লোডশেডিং না থাকলেও চরম ভোগান্তিতে গ্রামের মানুষ। গ্যাস সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তীব্র গরমে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কবলে বড় জনগোষ্ঠী।
ভোক্তা সংগঠন ক্যাব বলছে, শহর-গ্রামে 'সমতা ভিত্তিক লোডশেডিং' শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ। যদিও মন্ত্রীর দাবি, সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতাই গ্রামে লোডশেডিংয়ের বড় কারণ।
এবার পুরো গ্রীষ্মেই রাজধানীতে খুব একটা লোডশেডিং দেখা যায়নি। জুন-জুলাই মাসে গরমের তীব্রতার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক ।
ভিন্ন চিত্র শহরতলী বা গ্রামে, লোডশেডিং প্রতিদিন নয়, যেন প্রতিঘণ্টার অভিজ্ঞতা। জামালপুর, রংপুর, নীলফামারি, নাটোর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুরো মৌসুমেই ভোগান্তিতে গ্রাহকরা।
ভক্সপপ: জামালপুরের এক যুবক বলেন, রাত ৮টার দিকে কারেন্ট চইলা যায়। অপেক্ষা করতে করতে ঘুম। কখন যে কারেন্ট আসব আমরা কইবার পারি না।
আরেক যুবক বলেন, সারাদিনে ২–৩ ঘণ্টা কারেন্ট থাকে। অন্যসময় থাকে না।
এক দোকানদার বলেন, কারেন্ট একবার গেলে দীর্ঘ সময় আসে না। এতে কাজে বিঘ্ন হয়।
এক ব্যক্তি বলেন, রাত ১২টা–১টায় ঘুমের সময় কারেন্ট যায়। নামাজের সময় কারেন্ট যায়। আমরা বড় কষ্টে আছি।
২৫ জুলাই রাত ১টায় সারাদেশে লোডশেডিং ছিল দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি। একটি এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ায় সংকট বেড়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে।
এর আগে, দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায়, ২৮ জুন রাতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ক্যাবের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহকের কাঁধেই পুরো লোডশেডিং চাপাচ্ছে সরকার।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, আমরা ধরে নিচ্ছি যে, এটা আমাদের নিয়তি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা লোডশেডিং মুক্ত হতে পারছি না। কিন্তু সেই লোডশেডিংটা তো সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। এই সংকটটা তো সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলছেন, শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে গ্রামাঞ্চলে যে সঞ্চালন লাইন টানা হয়েছে তা মানসম্মত নয়। চাপ বেশি দিলে লাইনে সমস্যা হয়, বিচ্ছিন্ন হয় বিদ্যুৎ সংযোগ।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে গিয়ে অপরিকল্পিত যে সঞ্চালন লাইনগুলো করেছে, যখন আমরা বেশি লোড দিতে যাই ওই লাইনগুলোর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে যে লোডশেডিংটা হচ্ছে– এটা মূলত টেকনিক্যাল কারণে। এটা বিদ্যুতের সংকটের জন্য নয়।
গ্রামাঞ্চলের সঞ্চালন লাইন ধাপে ধাপে উন্নত করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।



