প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৪১ পিএমআপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ০৫:৪৭ পিএম
শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘গুটি’
অর্ণব সান্যাল, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
গল্পের শুরুটা পথে। সেই পথের যাত্রী সুলতানা। পথ পাড়ি দিয়েই তার আয় হয়, আয় হয় শরীরকে কষ্ট দিয়ে। সেই সঙ্গে আছে আবার আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার লুকোচুরি খেলা। পথ থেকে ঘরে থিতু হওয়ার চেষ্টা চলে সুলতানার। কিন্তু পথ কি ছাড়ে সুলতানাকে? নাকি পালানোর হিসাবে এক পথ থেকে আরেক পথে পাড়ি জমানোই সুলতানার একমাত্র ভবিতব্য?
গল্পের শুরুর মতো আপাতভাবে হওয়া শেষটাতেও সুলতানার জন্য পথই একমাত্র অবলম্বন। সেই পথে অবশ্য তাড়া আছে, পালিয়ে বেড়ানোর তাড়া। হোঁচট খেতে খেতে এই আতঙ্কেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে দৌড়ে বেড়ায় সুলতানা। তাতেও স্বস্তি কোনোভাবেই ধরা দেয় না তার জীবনে। সেখানে যেন অস্বস্তি আর বিপত্তি বাদে কিছু নেই।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি নিয়ে এসেছে অরিজিনাল সিরিজ ‘গুটি’। শঙ্খ দাশগুপ্তের পরিচালনায় নির্মিত ‘গুটি’র গল্প সম্পর্কে চরকি বলছে, ‘সুলতানা একজন মাদক পাচারকারী এবং একজন মা। কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এই সময়ের মধ্যে সুলতানা প্রচুর অর্থ ও সম্পদ অর্জন করেছে, কিন্তু বিনিময়ে হারাতে হয়েছে কাছের মানুষ, সম্পর্ক, বিশ্বাস ও আশা। পালানোর কোনো পথ নেই, তবু পালানোই হয়ে ওঠে সুলতানার একমাত্র পথ।’
সুলতানা জীবনের চাকা সচল রাখতেই বেছে নিয়েছিল বাঁকা পথ। সেই পথে সাময়িক স্বস্তি এলেও, সুখ আর কখনোও ধরা দেয়নি। উল্টো হারিয়ে গেল মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অনুষঙ্গ - আস্থা, বিশ্বাস ও আশা। তারপরও সিরিজের শেষে জীবনের দরিয়ায় প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই আশার ভেলায় ফের চড়ে বসে সুলতানা। কিন্তু তাতেও কি আর শেষ রক্ষা হয়!
এই সুলতানাকে দেখে মনে পড়ে যায় আরেক সুলতানার কথা। ১৯০৫ সালে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ করেছিলেন ‘সুলতানা’স ড্রিম’। কিংবদন্তি এই রচনায় এমন এক লেডি-ল্যান্ডের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নারী ও পুরুষের চিরাচরিত সমাজনির্মিত ভূমিকা পুরোপুরি উল্টে গিয়েছিল। সেখানে নারীরা ছিল বাইরে, পুরুষেরা ছিল অন্তঃপুরবাসী। সেখানে ছিল না কোনো অপরাধ। ছিল না বাল্য-বিবাহ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারি। সে রাজ্যের মূল ভিত্তি ছিল সত্যবাদিতা, ভালোবাসা ও মানবতা।
'গুটি' ওয়েব সিরিজে আজমেরী হক বাঁধন
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা পুরুষতন্ত্রের তুলনায় নারীদের জন্য সেই কল্পিত স্বর্গরাজ্যের ঠিক উল্টোটাই যেন ‘গুটি’র সুলতানার বাস্তবতা। সেখানে কম-বেশি সব পুরুষই সুলতানার জীবনে খলনায়ক রূপে ধরা দেয়। তবে কি ‘গুটি’ পর্দার ‘সুলতানা’স নাইটমেয়ার’?
সিরিজটিতে সুলতানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। সুলতানার মতো নারীদের যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবনের অভিব্যক্তি তার চরিত্রে ছিল সিরিজজুড়েই। চরিত্রের প্রয়োজনেই কিছুটা উচ্চকিত ও উত্তেজিত ভঙ্গিমায় অভিনয় করতে হয়েছে বাঁধনকে। তিনি সেই কাজটি সার্থকভাবেই করেছেন। এর সঙ্গে পর্দায় প্রায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বিপথে গিয়ে ফাঁদে আটকে পড়া এক নারীর সবকিছু। বাঁধন যেমন শরীরী ভঙ্গিমায় সুলতানা হয়ে উঠেছেন, তেমনি সাত পর্বের কোনোটিতেই সুলতানার মানসিক গঠন থেকে দর্শককে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ দেননি। ফলে দর্শকেরা কখনোই পর্দায় বাঁধনকে পাননি, পেয়েছেন শুধু সুলতানাকে।
সিরিজটিতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়, শরীফ সিরাজ, মৌসুমি হামিদ, নাসির উদ্দিন খানসহ এক ঝাঁক অভিনয়শিল্পী। নাসির উদ্দিন খান বরাবরের মতোই সাবলীল ছিলেন। সিএনজির চালক থেকে ভাড়াটে মাস্তান – কোনো ভূমিকাতেই দর্শকের মনে অবিশ্বাস জন্মাতে দেননি তিনি। মৌসুমি হামিদও পরকীয়া থেকে চরম অসহায় অবস্থায় নিপতিত নারীর চরিত্রকে দক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। আলাদা করে বলতেই হয় শাহরিয়ার নাজিম জয় ও শরীফ সিরাজের কথা। কামার্ত ও লম্পট স্বামীর ভূমিকায় জয় ছিলেন তুলনাহীন। একটিবারের জন্যও পর্দায় তাঁকে অপ্রস্তুত মনে হয়নি। ওদিকে সুযোগসন্ধানী মানুষ কেমন হয়, তার চিত্রায়নে ত্রুটি রাখেননি শরীফ সিরাজ।
‘গুটি’র একটি দৃশ্যে শাহরিয়ার নাজিম জয় ও আজমেরী হক বাঁধন
শঙ্খ দাশগুপ্তের অন্যান্য কাজের মতোই ক্যামেরার সদ্ব্যবহারের কারণে ‘গুটি’ দেখতেও ভালো লাগে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যোগ্য অভিনয়শিল্পীদের সৎ চেষ্টা এবং বেশ পরিপাটি একটি চিত্রনাট্য। রোমাঞ্চও ছিল ঠাস বুনোটে। ফলে ‘গুটি’ দেখতে গিয়ে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। দেখতে বসলে কখন যে সাতটি পর্ব একে একে পার হয়ে যাবে, তা হয়তো টেরই পাওয়া যাবে না!
তা এমন একটি সিরিজ আর না দেখে ফেলে রেখে লাভ কি! বরং দেখা শুরু করতেই পারেন ‘গুটি’। সাত নম্বর পর্বের শেষে দ্বিতীয় সিজন দেখার জন্য মন কেমন কেমন করলেই বুঝবেন গুটির খুঁটি কতটা শক্ত!
মেক্সিকোতে ভয়ংকর এক হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠেছে সংগীতাঙ্গন। নিজ বাড়িতেই খুন হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী গায়ক হোনাতান মেলেন্দেজ। তাঁর সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আনা পলা মেলেন্দেজ,...
প্রকাশ পেল নির্মাতা রায়হান রাফীর মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘আন্ধার’-এর একঝলক। যেখানে নজর কেড়েছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও নাজিফা তুষি। এর আগে, প্রকাশ পেয়েছিল এ সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের ফার্স্টলুক, যা...
ঢাকাই চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকে যে ক’জন শিল্পী কণ্ঠ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাবিনা ইয়াসমিন। নায়িকা কবরী থেকে শুরু করে হালের অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলীসহ অনেকের অভিনয়েই তাঁর কণ্ঠে গান শোনা গেছে। দীর্ঘ...
অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নন মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার...
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ লোপাট ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্যাংকের ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি কেনার নামে প্রায় দুইশো কোটি টাকা...
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নতুন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. সায়ীদ মেহবুব উল কাদির। তিনি একই প্রতিষ্ঠানের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন...
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এক ছোট দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে মানুষ থাকেন মাত্র সাড়ে তিন হাজারের মতো। সেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আবার বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় চলে এসেছে। চার দশক আগে এই দ্বীপ নিয়েই যুদ্ধ...
চলতি বছর দেশের জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি খরচ হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই বাড়তি ব্যয় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি টাকার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি...
গুটি’র কতটা শক্ত খুঁটি?
অর্ণব সান্যাল, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন
গল্পের শুরুটা পথে। সেই পথের যাত্রী সুলতানা। পথ পাড়ি দিয়েই তার আয় হয়, আয় হয় শরীরকে কষ্ট দিয়ে। সেই সঙ্গে আছে আবার আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার লুকোচুরি খেলা। পথ থেকে ঘরে থিতু হওয়ার চেষ্টা চলে সুলতানার। কিন্তু পথ কি ছাড়ে সুলতানাকে? নাকি পালানোর হিসাবে এক পথ থেকে আরেক পথে পাড়ি জমানোই সুলতানার একমাত্র ভবিতব্য?
গল্পের শুরুর মতো আপাতভাবে হওয়া শেষটাতেও সুলতানার জন্য পথই একমাত্র অবলম্বন। সেই পথে অবশ্য তাড়া আছে, পালিয়ে বেড়ানোর তাড়া। হোঁচট খেতে খেতে এই আতঙ্কেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে দৌড়ে বেড়ায় সুলতানা। তাতেও স্বস্তি কোনোভাবেই ধরা দেয় না তার জীবনে। সেখানে যেন অস্বস্তি আর বিপত্তি বাদে কিছু নেই।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি নিয়ে এসেছে অরিজিনাল সিরিজ ‘গুটি’। শঙ্খ দাশগুপ্তের পরিচালনায় নির্মিত ‘গুটি’র গল্প সম্পর্কে চরকি বলছে, ‘সুলতানা একজন মাদক পাচারকারী এবং একজন মা। কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এই সময়ের মধ্যে সুলতানা প্রচুর অর্থ ও সম্পদ অর্জন করেছে, কিন্তু বিনিময়ে হারাতে হয়েছে কাছের মানুষ, সম্পর্ক, বিশ্বাস ও আশা। পালানোর কোনো পথ নেই, তবু পালানোই হয়ে ওঠে সুলতানার একমাত্র পথ।’
সুলতানা জীবনের চাকা সচল রাখতেই বেছে নিয়েছিল বাঁকা পথ। সেই পথে সাময়িক স্বস্তি এলেও, সুখ আর কখনোও ধরা দেয়নি। উল্টো হারিয়ে গেল মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অনুষঙ্গ - আস্থা, বিশ্বাস ও আশা। তারপরও সিরিজের শেষে জীবনের দরিয়ায় প্রাণ বাঁচানোর তাগিদেই আশার ভেলায় ফের চড়ে বসে সুলতানা। কিন্তু তাতেও কি আর শেষ রক্ষা হয়!
এই সুলতানাকে দেখে মনে পড়ে যায় আরেক সুলতানার কথা। ১৯০৫ সালে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ করেছিলেন ‘সুলতানা’স ড্রিম’। কিংবদন্তি এই রচনায় এমন এক লেডি-ল্যান্ডের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নারী ও পুরুষের চিরাচরিত সমাজনির্মিত ভূমিকা পুরোপুরি উল্টে গিয়েছিল। সেখানে নারীরা ছিল বাইরে, পুরুষেরা ছিল অন্তঃপুরবাসী। সেখানে ছিল না কোনো অপরাধ। ছিল না বাল্য-বিবাহ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারি। সে রাজ্যের মূল ভিত্তি ছিল সত্যবাদিতা, ভালোবাসা ও মানবতা।