ইমরান খানকে যেভাবে তুলল ও ফেলল পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্ব
ইনডিপেনডেন্ট ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩, ০৮:৫১ পিএমআপডেট : ১১ মে ২০২৩, ০৯:০৬ পিএম
ছবি: পিটিআইয়ের ফেসবুক থেকে নেওয়া
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খান এক দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন - সে দেশের অধিকাংশ মানুষ এটা কখনো ভাবতেও পারেননি। কিন্তু তা সম্ভব হয়েছে। আর এই সম্ভব হওয়ার পেছনের ম্যাজিকের নাম পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও এর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সে কথাই আজ বৃহস্পতিবার সবিস্তারে লিখেছেন পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হামিদ মির।
উর্দু দৈনিক জং-এ প্রকাশিত কলামে হামিদ মির লিখেছেন, ২০১১ সালে ‘প্রজেক্ট ইমরান’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় আইএসআই। সে সময় এই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন আহমেদ সুজা পাশা। এর উদ্দেশ্যই ছিল ইমরানকে ব্যবহার করে সরকার থেকে নওয়াজ শরিফকে হটানো। ২০১২ সালে সুজা অবসরে গেলেও তা চালিয়ে যেতে থাকেন তাঁর উত্তরসূরী জহিরুল ইসলাম। তিনিও ব্যর্থ হন। ফলে প্রজেক্ট আপাতত স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর ‘খুল যা সিম সিম’-এর মতো করে চালু হয়ে যায় প্রজেক্ট।
হামিদ মির লিখছেন, ২০১৮ সালে জেনারেল বাজওয়া রাজনীতিক ইমরানের সাথে আলাপ শুরু করেন। তবে শুরুতে তাঁর খুব একটা পছন্দ হয়নি ইমরানকে। সে সময় শাহবাজ শরিফের সাথেও এ নিয়ে কথা বলেন বাজওয়া। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। ফলে ইমরান ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে সেনাবাহিনীর সাহায্যে কূটকৌশলের ওই নির্বাচনে বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান ইমরান। ‘প্রজেক্ট ইমরান’ -এর অংশই ছিল দেশটির রাজনৈতিক সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেনশিয়াল শাসন পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা। ওদিকে ক্ষমতায় বসেই ইমরান তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে শুরু করলেন। পাশাপাশি এমন কিছু সেনা কর্মকর্তার সাথে দহরম-মহরম বাড়িয়ে দিলেন, যাঁরা জেনারেল বাজওয়াকে সমর্থন করতেন না।
২০১৯ সালে আইএসআই-এর প্রধানের পদ থেকে ফায়েজ হামিদকে সরাতে চাইলেন বাজওয়া, কিন্তু সায় দিলেন না প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এতে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে লাগল। সেনাপ্রধানের সাথে তাঁর এই মতবিরোধের সুযোগ নিল বিরোধীরা। ২০২২ সালের এপ্রিলে আইনসভায় অনাস্থা প্রস্তাব এনে হটিয়ে দেওয়া হলো ইমরানকে। তার পরেও খানসাহেব ভেবেছিলেন দ্রুত আবার প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরতে পারবেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার আদালত চত্বর থেকে তাঁর গ্রেপ্তার সে আশায় একেবারে পানি ঢেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইমরানের গ্রেপ্তারের পরে তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা অনেকটাই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো।
হামিদ মির বলছেন, যদিও এর আগে অনেক রাজনীতিকই আদালত থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর প্রতিক্রিয়া ছিল চরম এবং তা দলটির গায়ে চরমপন্থী লেবেল সেঁটে দিয়েছে। এই ধরনের উগ্র প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী দলের নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ ও কথাবার্তা। যদিও ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা যখনই প্রশংসা করেছেন, ইমরান তাঁদের সমর্থন দিয়েছেন; আবার তাঁর পেছন থেকে সরে গেলে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বিরোধীদের এই বলেও হুমকি দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেন রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ না করেন।
হামিদ মিরের মতে, ইমরানের গ্রেপ্তারের পর তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিক্রিয়া ছিল বালখিল্যপনা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতাকে তারা ব্যক্তিগত শত্রুতায় পর্যবসিত করেছে। দলের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কদর্য কথাবার্তা বলেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করেছেন। এ কারণে তারা সহানুভূতি ও সমর্থন - দুই-ই হারিয়েছেন। ইমরান খান কারাগার থেকে এক সময় মুক্তি পাবেনই। কিন্তু তাঁর দলের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দল হিসেবে তেহরিক-ই-ইনসাফের বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
হামিদ মির লিখেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেমন উচিত নয়; তেমনি ‘প্রজেক্ট ইমরান’-এর নামে যেসব অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংবিধানকে অস্বীকার করেছেন তাঁদের আইনের আওতায় আনা উচিত। কয়েকজন জেনারেলের নাম করে ইমরান খান যেভাবে সেনাবাহিনীকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন, তা রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বন্ধে সঠিক পন্থা নয়। এটা আশা করা যায়, জেল থেকে বেরিয়ে ইমরান তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফকে একটা রাজনৈতিক দলে পরিণত করবেন।
মিরের শেষ কথা হলো, রাজনীতিকদের গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় যেতে হবে এবং পাকিস্তানের আরও ক্ষতি না করতে চাইলে সেনাবাহিনীকেও রাজনীতিতে নাক গলানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সপ্তাহজুড়ে চলা দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ বুধবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
অনলাইন প্রতারণার চক্র গড়ে তোলার অভিযোগে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৫ জন বাংলাদেশিসহ ১৯ জন বিদেশিকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটির গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান দ্রুত তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধার করছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে দেশটি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আরও বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি...
এক মাস পর পণ্য রপ্তানি আবার কমল। গেল মে মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৭ শতাংশ। বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে...
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি শহরে। আগামী ৫ জুন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু...
ইমরান খানকে যেভাবে তুলল ও ফেলল পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্ব
উর্দু দৈনিক জং-এ প্রকাশিত কলামে হামিদ মির লিখেছেন, ২০১১ সালে ‘প্রজেক্ট ইমরান’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় আইএসআই। সে সময় এই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন আহমেদ সুজা পাশা। এর উদ্দেশ্যই ছিল ইমরানকে ব্যবহার করে সরকার থেকে নওয়াজ শরিফকে হটানো। ২০১২ সালে সুজা অবসরে গেলেও তা চালিয়ে যেতে থাকেন তাঁর উত্তরসূরী জহিরুল ইসলাম। তিনিও ব্যর্থ হন। ফলে প্রজেক্ট আপাতত স্থগিত হয়ে যায়। কিন্তু জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর ‘খুল যা সিম সিম’-এর মতো করে চালু হয়ে যায় প্রজেক্ট।
হামিদ মির লিখছেন, ২০১৮ সালে জেনারেল বাজওয়া রাজনীতিক ইমরানের সাথে আলাপ শুরু করেন। তবে শুরুতে তাঁর খুব একটা পছন্দ হয়নি ইমরানকে। সে সময় শাহবাজ শরিফের সাথেও এ নিয়ে কথা বলেন বাজওয়া। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। ফলে ইমরান ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে সেনাবাহিনীর সাহায্যে কূটকৌশলের ওই নির্বাচনে বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান ইমরান। ‘প্রজেক্ট ইমরান’ -এর অংশই ছিল দেশটির রাজনৈতিক সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেনশিয়াল শাসন পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা। ওদিকে ক্ষমতায় বসেই ইমরান তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে শুরু করলেন। পাশাপাশি এমন কিছু সেনা কর্মকর্তার সাথে দহরম-মহরম বাড়িয়ে দিলেন, যাঁরা জেনারেল বাজওয়াকে সমর্থন করতেন না।
২০১৯ সালে আইএসআই-এর প্রধানের পদ থেকে ফায়েজ হামিদকে সরাতে চাইলেন বাজওয়া, কিন্তু সায় দিলেন না প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এতে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে লাগল। সেনাপ্রধানের সাথে তাঁর এই মতবিরোধের সুযোগ নিল বিরোধীরা। ২০২২ সালের এপ্রিলে আইনসভায় অনাস্থা প্রস্তাব এনে হটিয়ে দেওয়া হলো ইমরানকে। তার পরেও খানসাহেব ভেবেছিলেন দ্রুত আবার প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরতে পারবেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার আদালত চত্বর থেকে তাঁর গ্রেপ্তার সে আশায় একেবারে পানি ঢেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইমরানের গ্রেপ্তারের পরে তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা অনেকটাই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো।
হামিদ মির বলছেন, যদিও এর আগে অনেক রাজনীতিকই আদালত থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর প্রতিক্রিয়া ছিল চরম এবং তা দলটির গায়ে চরমপন্থী লেবেল সেঁটে দিয়েছে। এই ধরনের উগ্র প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী দলের নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ ও কথাবার্তা। যদিও ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা যখনই প্রশংসা করেছেন, ইমরান তাঁদের সমর্থন দিয়েছেন; আবার তাঁর পেছন থেকে সরে গেলে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বিরোধীদের এই বলেও হুমকি দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেন রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ না করেন।
হামিদ মিরের মতে, ইমরানের গ্রেপ্তারের পর তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিক্রিয়া ছিল বালখিল্যপনা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতাকে তারা ব্যক্তিগত শত্রুতায় পর্যবসিত করেছে। দলের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কদর্য কথাবার্তা বলেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করেছেন। এ কারণে তারা সহানুভূতি ও সমর্থন - দুই-ই হারিয়েছেন। ইমরান খান কারাগার থেকে এক সময় মুক্তি পাবেনই। কিন্তু তাঁর দলের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দল হিসেবে তেহরিক-ই-ইনসাফের বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
হামিদ মির লিখেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেমন উচিত নয়; তেমনি ‘প্রজেক্ট ইমরান’-এর নামে যেসব অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সংবিধানকে অস্বীকার করেছেন তাঁদের আইনের আওতায় আনা উচিত। কয়েকজন জেনারেলের নাম করে ইমরান খান যেভাবে সেনাবাহিনীকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন, তা রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বন্ধে সঠিক পন্থা নয়। এটা আশা করা যায়, জেল থেকে বেরিয়ে ইমরান তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফকে একটা রাজনৈতিক দলে পরিণত করবেন।
মিরের শেষ কথা হলো, রাজনীতিকদের গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় যেতে হবে এবং পাকিস্তানের আরও ক্ষতি না করতে চাইলে সেনাবাহিনীকেও রাজনীতিতে নাক গলানো থেকে বিরত থাকতে হবে।