অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনা—শব্দ দুটি যেন দিন দিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিশব্দ হয়ে উঠছে। বিশ্বরাজনীতিতে ট্রাম্প মানেই অনিশ্চয়তা, ট্রাম্প মানেই উত্তেজনা।
একদিকে তিনি ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন; অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে বসে অত্যন্ত সাধারণ ভঙ্গিতে যুদ্ধ ও শান্তির মতো গুরুতর বিষয়ে মন্তব্য করছেন। তাঁর এই বিপরীতমুখী আচরণ বিশ্বজুড়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ইরান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের উদ্যোগ নেওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের জন্য সাহায্য আসছে।’ এরপরই বিশ্বজুড়ে শুরু হলো জল্পনা-কল্পনা আর হইচই। তবে কি আমেরিকা ইরানে হামলা করবে? আবার এর পরপরই তিনি ইরানকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়েও এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার; আর সেটা লিজের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি। তাঁর এ ঘোষণার পর ইউরোপজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। এরই মধ্যে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো যেমন—ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নরওয়ে ডেনমার্কে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। অথচ এই ন্যাটোর সবচেয়ে বড় শক্তিই হলো আমেরিকা। এখন নিজেদের মিত্রের বিরুদ্ধেই ভূখণ্ড রক্ষায় একাট্টা হতে হচ্ছে তাদের।
ট্রাম্প ডেনমার্কের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘দুটি কুকুরে টানা স্লেজ দিয়েই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।’ স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রদের ক্ষুব্ধ করেছে।
এদিকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে ফেললেন। দেশটির রাজধানী থেকে তুলে নিয়ে এলেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। শুধু মাদুরোই নন, সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও মার্কিন ভূখণ্ডে তুলে আনা হলো। আবার তিনি গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনার কথাও বলছেন। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এসব হঠকারী সিদ্ধান্তে সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অভাব রয়েছে।
ইরান ইস্যুতেই সম্ভবত ট্রাম্প সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার উৎসাহ দিয়েছেন। কথা দিয়েও যদি তিনি ইরানে সামরিক পদক্ষেপ না নেন, তবে নৈতিক ও কৌশলগত জায়গায় তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে দেখা হতে পারে। আবার যদি তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ফেলেন, তবে তা আমেরিকাকে দীর্ঘ ও বিপজ্জনক এক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এ শাসনকালকে অনেকেই দেখছেন ‘আকস্মিক সিদ্ধান্ত, হুমকি আর নাটকীয়তার’ সংমিশ্রণ হিসেবে। যেখানে বিশ্বরাজনীতি এখন ‘পাগলাটে ট্রাম্পের’ কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন



